পবিত্র মাহে রমজানে দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার ফলে শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে এবারের রমজান গরমে হওয়ায় পানিশূন্যতা ও ক্লান্তির পাশাপাশি হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতার ও সাহরির ডায়েট চার্টে সামান্য পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। আর সেই তালিকায় অন্যতম সেরা সংযোজন হতে পারে ‘আলু বোখারা’ (Prunes)। মোগলীয় রান্নায় বিরিয়ানি বা চাটনিতে এর ব্যবহার থাকলেও, সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমে এর ‘Nutritional Value’ বা পুষ্টিগুণ কয়েক গুণ বেশি পাওয়া সম্ভব।
পুষ্টির ‘পাওয়ার হাউস’ ও ক্লান্তি নিরসন আলু বোখারা কেবল স্বাদে অনন্য নয়, এটি ভিটামিন এ, সি, ডি এবং ই-এর একটি সমৃদ্ধ উৎস। এতে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণে মিনারেল ও ‘Fiber’ রোজাদারদের শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘ উপবাসের পর ইফতারে আলু বোখারা খেলে তা শরীরের ‘Metabolism’ বা বিপাক প্রক্রিয়াকে সচল করে এবং মুহূর্তেই সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে শরীরকে সতেজ রাখে।
হাড়ের সুরক্ষা কবচ: গবেষণার তথ্য রমজানে পানিশূন্যতার কারণে হাড়ের ঘনত্ব বা ‘Bone Density’র ওপর প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে। আমেরিকার পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির (Pennsylvania State University) গবেষকদের মতে, প্রতিদিন অন্তত তিনটি করে আলু বোখারা খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এটি হাড় ক্ষয়রোধে একটি প্রাকৃতিক ‘সুরক্ষা কবচ’ হিসেবে কাজ করে, যা বয়স্ক এবং নারী রোজাদারদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
হজমপ্রক্রিয়া ও হার্টের সুরক্ষা ভাজাপোড়া ইফতারি খাওয়ার ফলে রমজানে অনেকেরই হজমে সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। আলু বোখারায় থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি পটাশিয়ামের একটি চমৎকার উৎস হওয়ায় রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ‘Cardiovascular Health’ বা হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
রক্তশূন্যতা ও ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকরী যারা অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন, তাদের জন্য আলু বোখারা একটি প্রাকৃতিক ওষুধ। এটি রক্তে লোহিত রক্তকণিকা বা ‘Red Blood Cells’ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে থাকা শক্তিশালী ‘Antioxidants’ কোষের ক্ষতি রোধ করে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। স্মৃতিশক্তি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বৃদ্ধিতেও এর জুড়ি নেই।
রূপচর্চা ও বার্ধক্য রোধ আলু বোখারা কেবল অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য নয়, বরং ত্বকের লাবণ্য বজায় রাখতেও সমান কার্যকরী। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকে বয়সের ছাপ বা ‘Anti-aging’ এজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে। দীর্ঘ উপবাসের ফলে ত্বকে যে শুষ্কতা তৈরি হয়, আলু বোখারা তা ভেতর থেকে সারিয়ে তোলে।
সতর্কতা আলু বোখারা অত্যন্ত উপকারী হলেও এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত আলু বোখারা হিতে বিপরীত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে যারা কিডনিজনিত সমস্যা বা দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগে আক্রান্ত, তাদের ডায়েট চার্টে এই ফলটি অন্তর্ভুক্ত করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।