দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে যাওয়া কেবল অস্বস্তিকরই নয়, এটি দৈনন্দিন খাওয়া-দাওয়া এবং কথা বলার ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মাড়ির এই প্রদাহকে অনেক সময় ‘Gingivitis’ বলা হয়। সাধারণত দাঁতের গোড়ায় ‘Plaque’ বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, সঠিক ওরাল কেয়ারের অভাব কিংবা পুষ্টিহীনতার কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় কিছু কার্যকরী ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করলে এই যন্ত্রণা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
১. কুসুম গরম লবণ পানির ওরাল থেরাপি মাড়ির ফোলাভাব কমাতে সবচেয়ে প্রাচীন এবং কার্যকর পদ্ধতি হলো লবণ পানিতে কুলকুচি করা। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে দিনে অন্তত ২-৩ বার কুলি করুন। এটি মাড়ির ভেতরের ‘Bacteria’ ধ্বংস করতে এবং প্রাকৃতিক ‘Disinfectant’ হিসেবে কাজ করে, যা দ্রুত ফোলা ও ব্যথা কমিয়ে দেয়।
২. সঠিক ব্রাশ ও ‘Oral Hygiene’ বজায় রাখা মাড়ি ফুলে গেলে অনেকেই ব্রাশ করা বন্ধ করে দেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এক্ষেত্রে অত্যন্ত নরম বা ‘Ultra-soft’ ব্রাশ ব্যবহার করুন। দিনে দুবার হালকা হাতে ব্রাশ করলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা ও প্লাক দূর হয়। তবে খেয়াল রাখবেন যেন মাড়িতে অতিরিক্ত চাপ না লাগে।
৩. অ্যান্টিসেপ্টিক মাউথওয়াশের ব্যবহার মুখের ভেতর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার রোধ করতে একটি ভালো মানের ‘Antiseptic Mouthwash’ ব্যবহার করা জরুরি। বিশেষজ্ঞ ডেন্টিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যালকোহলমুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করলে মাড়ির সংক্রমণ বা ‘Oral Infection’ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
৪. ফোলা কমাতে কোল্ড কমপ্রেস বা ঠান্ডা সেঁক মাড়িতে তীব্র ব্যথা ও ফোলা থাকলে গালের বাইরে থেকে হালকা ঠান্ডা সেঁক বা ‘Cold Compress’ দিতে পারেন। একটি পরিষ্কার কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে আক্রান্ত স্থানের বাইরের দিকে ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখুন। এটি রক্তনালীকে সংকুচিত করে ব্যথা ও প্রদাহ সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়।
৫. খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ ও নরম খাবার মাড়ি যখন সংবেদনশীল থাকে, তখন অতিরিক্ত শক্ত, ঝাল, টক কিংবা গরম খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই সময়ে স্যুপ, দই বা চটকানো নরম খাবার গ্রহণ করুন। এতে মাড়িতে ঘর্ষণ কম হয় এবং ক্ষত দ্রুত শুকানোর সুযোগ পায়।
৬. হাইড্রেটেড থাকা ও পর্যাপ্ত পানি পান পর্যাপ্ত পানি পান করলে মুখে লালা বা ‘Saliva’ উৎপাদন স্বাভাবিক থাকে। লালা প্রাকৃতিকভাবেই মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে ফেলতে সাহায্য করে। তাই সারাদিন প্রচুর পানি পান করুন, যা মুখ পরিষ্কার রাখতে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে।
কখন ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক? ঘরোয়া পদ্ধতিতে সাময়িক আরাম মিললেও কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
যদি মাড়ি থেকে অবিরাম রক্ত পড়ে।
ব্যথা যদি অসহনীয় হয়ে ওঠে এবং কানে বা মাথায় ছড়িয়ে পড়ে।
৩-৪ দিন পার হওয়ার পরও যদি ফোলা না কমে।
মাড়ি থেকে পুঁজ নির্গত হলে কিংবা মুখে তীব্র দুর্গন্ধ দেখা দিলে।
দাঁতের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে বছরে অন্তত দুবার প্রফেশনাল ‘Dental Cleaning’ করানো এবং নিয়মিত ওরাল চেকআপ করা প্রয়োজন। মনে রাখবেন, অবহেলিত মাড়ির সমস্যা পরবর্তীতে দাঁত হারানোর কারণ হতে পারে।