ঢাকা ও বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মৈত্রীতে যোগ হলো এক নতুন মাত্রা। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে বন্ধুপ্রতিম দেশ চীন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেইজিং থেকে পাঠানো এক উচ্চপর্যায়ের বার্তায় দুই দেশের সংসদীয় কূটনীতি ও সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা (Strategic Cooperation) আরও দৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ঝাও লেজি’র উষ্ণ অভিনন্দন ও দ্বিপাক্ষিক অঙ্গীকার চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের (NPC) স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তায় হাফিজ উদ্দিন আহমদকে তাঁর নতুন দায়িত্বের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। বার্তায় ঝাও উল্লেখ করেন, চীন ও বাংলাদেশ কেবল ভৌগোলিক প্রতিবেশী নয়, বরং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত অংশীদার। বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে দুই দেশ সবসময়ই নিবিড় সহযোগিতা বজায় রেখেছে এবং এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন এক অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছে।
সংসদীয় বিনিময় ও উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত অংশীদারত্ব অভিনন্দন বার্তায় ঝাও লেজি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ বিনিময় এবং সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব (Comprehensive Strategic Partnership) জোরদার করতে বিশেষভাবে আগ্রহী। বেইজিং মনে করে, দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় এবং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তিকে আরও মজুত ও গতিশীল করবে।
কূটনৈতিক গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাফিজ উদ্দিন আহমদের মতো একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ এবং তাতে চীনের এই দ্রুত ও আনুষ্ঠানিক সাড়া দেওয়া দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি কেবল একটি প্রথাগত অভিনন্দন বার্তা নয়, বরং বাংলাদেশের নতুন সংসদীয় নেতৃত্বের প্রতি চীনের গভীর আস্থার প্রতিফলন। এই সহযোগিতার ফলে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নীতি-নির্ধারণী পর্যায়েও দুই দেশ আরও কাছাকাছি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। চীনের এই বার্তাটি মূলত দুই দেশের ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব’কে আরও উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার একটি রোডম্যাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল থেকে অভিনন্দন বার্তা পাচ্ছেন, যা বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বৈশ্বিক সমর্থনেরই বহিঃপ্রকাশ।