স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলেদের মুক্তির পেছনে মুক্তিপণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা হচ্ছে, স্থানীয় দালালের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার নাফ নদীর নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকার কাছ থেকে গুলি ছুঁড়ে ওই জেলেদের ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। ফেরত আসা জেলেরা হলেন- মীর কাশেম, গিয়াসউদ্দিন, সালাউদ্দিন, মহিউদ্দিন, মুস্তাফিজ, ফরিদ হোসেন, আবুল কালাম, রবিউল হাসান, হোসেন আহমেদ, মালাই কালু, রহিম উল্লাহ, মো. জাবেদ, আবু তাহের ও তার ছেলে আবদুল খালেক। তারা সবাই শাহপরীর দ্বীপ মাঝের পাড়া ও ডাংগর পাড়ার বাসিন্দা।
ফেরত আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান।
তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে জেলেরা নৌকায় করে ফিরে এসেছে। তবে মুক্তিপণ দেওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফেরত আসা জেলেদের একজন রহিম উল্লাহ জানান, জীবনের ঝুঁকি থেকে ফিরে আসতে পেরে তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আটক অবস্থায় তাদের মারধর করা হয়েছে এবং খাবারও দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া নৌকার মাঝি-মালাই কালু গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। ফেরত আসা জেলে আবু তাহের জানান, তাদের মুক্তির জন্য বাংলাদেশ থেকে এক ব্যক্তি আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের ফেরত আনার বিষয়ে ওই ব্যক্তির মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। একটি ট্রলার ছাড়তে প্রায় দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। তবে এর বেশি কিছু আমার জানা নেই।
এসব বিষয় প্রকাশ না করতেও আমাদের বলা হয়েছে।” অন্যদিকে, জেলে গিয়াস উদ্দিনের মা রশিদা খাতুন বলেন, তার তিন ছেলেসহ পরিবারের পাঁচজন নিরাপদে ফিরে আসায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ায় উদ্বেগ এখনো কাটেনি।
এ বিষয়ে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, তিনটি নৌকাসহ ১৪ জেলে ফিরে এসেছে। তারা কীভাবে মুক্তি পেয়েছে, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।