এই কমিটি গঠনের চূড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত আসে। এ বিষয়ে সরকারি দল এবং বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা দীর্ঘ দুই ঘণ্টা আলোচনা করেন।
বিতর্ক ও আলোচনার শেষ পর্যায়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পিকারকে এই বিশেষ কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন। এর আগে আলোচনার সূত্রপাত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, যিনি সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এই প্রস্তাব নীতিগতভাবে গ্রহণ করেন। তবে কমিটিতে সদস্য সংখ্যার অনুপাত নিয়ে সরকারি ও বিরোধীদলের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়।
সমান সদস্যের দাবি নাকচ করেন আইনমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও কমিটিতে সরকারি ও বিরোধীদলের সমান সংখ্যক (৫০-৫০) সদস্য রাখার জোর দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কোনো কমিটি গঠন করা হলে সেখানে বিরোধীদলের মতামতের কোনো মূল্যায়ন হবে না এবং শেষ পর্যন্ত তা ‘যে লাউ সেই কদু’তেই আটকে যাবে। আমরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান চাই। তাই সরকারি ও বিরোধীদল, দুই দিক থেকেই সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে।
তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি প্রস্তাব দিয়েছেন, বিরোধীদলের নেতাও তা পরোক্ষভাবে গ্রহণ করে বলেছেন সদস্য সংখ্যা ৫০-৫০ হলে ভালো হয়। ‘বিচার মানেই তালগাছটা আমার— এটা তো হতে পারে না! সংসদে ২১৯ জন সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিরা পাবেন ৫০ শতাংশ, আর ৭৭ জনের প্রতিনিধিরা পাবেন ৫০ শতাংশ; এটি পৃথিবীর কোন জায়গায় আছে? এটি কি বৈষম্য নয়? এটা কোন আইনে আছে?
এরপর আইনমন্ত্রী স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনি একটি কমিটি গঠন করুন। সংসদ একটি কমিটি গঠন করুক, যেখানে আমরা সবকিছু বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে জুলাই সনদের পথ অনুসরণ করে এমন একটি সংশোধনী আনব, যা দেশের জন্য কল্যাণকর হবে।