রাজধানী ঢাকায় ফুটপাত ও সড়কে দিনব্যাপী উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিন ২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রায় দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে তা আদায় করা হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টার পর থেকে রাজধানীতে শুরু হওয়া এ অভিযানে কিছু জায়গায় বাধা আসলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান বলেন, “কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে না, অভিযানের ব্যাপারে সবাই সহযোগিতা করছেন। আমরা রাজধানীবাসীর সকলের সহযোগিতা নিয়ে এ ধরনের অভিযান চলমান রাখবো। ফুটপাত মুক্ত রাখবো।”
এ অভিযান চলবে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ট্রাফিক আটটি বিভাগের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে এ অভিযান শুরু হয়ে গুলশান বিভাগে গিয়ে শেষ হবে।
দিনভর অভিযান শেষে বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি বলেছে, দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জরিমানা আদায়, মালামাল জব্দ এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযানে এক লাখ ৯২ হাজার টাকা দণ্ড ও ২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের অভিযানের কথা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি অঞ্চলের গোয়ালঘাট-নারিন্দা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে আইন অমান্য করায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়।
ওয়ারী বিভাগের যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের ধোলাইপাড় থেকে যাত্রাবাড়ী মোড় এবং শহীদ ফারুক সরণি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় রাস্তার পাশে অবৈধভাবে স্থাপিত দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। সেখানে সাত ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা দণ্ড দেওয়া হয় এবং অন্যদের সতর্ক করা হয়।
ট্রাফিকের রমনা বিভাগ বলছে, মগবাজার মোড় থেকে বাংলামোটর সিগন্যাল পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এ অভিযানে অবৈধভাবে পার্কিং করা বাইকের বিরুদ্ধে মোট ৫৯টি মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় তিন পিকআপ সমপরিমাণ বিভিন্ন ধরনের মালামাল জব্দ করা হয়।
ট্রাফিক পুলিশের মিরপুর বিভাগ জানিয়েছে, পল্লবী অঞ্চলের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও ভাষানটেক এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ছয়জন ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়ে ৬৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে এবং রাস্তা দখলমুক্ত করা হয়েছে।