• ব্যবসায়
  • ‘কাপড়ের আড়ালে মদ আমদানি’, এভাবেই দেশ চলবে, প্রশ্ন এনবিআর চেয়ারম্যানের

‘কাপড়ের আড়ালে মদ আমদানি’, এভাবেই দেশ চলবে, প্রশ্ন এনবিআর চেয়ারম্যানের

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
‘কাপড়ের আড়ালে মদ আমদানি’, এভাবেই দেশ চলবে, প্রশ্ন এনবিআর চেয়ারম্যানের

মদ আমদানিতে কর বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন তিনি।

কাপড় বা পোশাকের আড়ালে মদ আমদানি বন্ধ না হওয়ায় দেশের বার ও হোটেল মালিকদের এক হাত নিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

বার ও হোটেলগুলোর আমদানি ও বিক্রির তথ্যের মধ্যে মিল না থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আবার এটাও দেখি যে বিমানবন্দরে, সমুদ্রবন্দরে বড় বড় কন্টেইনার ধরা পড়ে। বলতেছে কাপড় আনছে, খুলে দেখি সব মদ। তার মানে হলো- আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে কোনো আমদানি নাই, কিন্তু আপনাদের ওখানে কনজাম্পশন হয়।”

এনবিআর চেয়ারম্যান তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, “এগুলো কীভাবে দূর করবেন? দয়া করে এগুলো কি? এভাবেই দেশ চলবে?

না কি, আপনারা আস্তে আস্তে ডিসিপ্লিনের মধ্যে আসবেন? সেগুলো একটু আমাদের দয়া করে সহায়তা করবেন।”

বুধবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে তারকা হোটেল, বার ও রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান এসব বলেন।

এসময় টেলিযোগাযোগ খাত ও সিগারেটের মত এ খাতেও বাড়তি করপোরেট করহার বাড়ানোর আভাস দেন তিনি।

তার ভাষ্য, এটি ‘সিন ট্যাক্স’ হিসেবে করা হবে।

বর্তমানে এ খাতে অন্য কোম্পানির মত সাড়ে ২৭ শতাংশ হারে কর দিতে হয়।

আবদুর রহমান বলেন, “কিন্তু মদ যারা তৈরি করেন এবং মদ যারা পরিবেশন করেন, তাদের কর কিন্তু খুবই কম, একেবারে সাধারণ ব্যবসার মতো। তো এই জায়গাটাতে আমরা যদি একটু আপনাদেরকে অনুরোধ করি–যেহেতু আপনারা অনেকটা বলা যায় আমাদের স্বাস্থ্য এবং সমাজ, দুইটার জন্যই ক্ষতিকারক কাজের সাথে জড়িত আছেন, আপনাদেরকে একটু কর বাড়াতে চাই।

“সিন ট্যাক্স, এটা একটু আপনারা দয়া করে মাথায় রাখবেন।”

বৈঠকে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি খালেদ উর রহমান বলেন, “একটা জিনিস বলি আমাদের স্টার হোটেলগুলো এখানে, সংগঠনের সদস্য মাত্র ৫৪। কারণ এখানে থ্রি টু ফাইভ স্টার হোটেল ছাড়া অন্য কোনো হোটেল নাই।

“এবং এখানে শতভাগ কমপ্লাই করি সবকিছু। আমাদের এখানে ভ্যাটের লোকজনের নজর সবচাইতে বেশি থাকে। এখানে সবকিছু ওপেন।”

মদ ও বিয়ার আমদানিতে শুল্ক যৌক্তিকীকরণের প্রস্তাব করা হয় তাদের তরফে। বার মালিকদের তরফেও একই প্রস্তাব মেলে।

‘বড় আমানত ঢুকছে না ব্যাংকিং চ্যানেলে’

এদিন দুপুরে ব্যাংক, পুঁজিবাজার ও বীমা সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এনবিআর।

সেখানে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, “এখন আমাদের একটা জিনিস দেখলাম যে ওই ট্যাক্স রিটার্নের প্রুফ অফ সাবমিশন যেটা আপনি ক্রেডিট কার্ডের জন্য তুলে দিয়েছেন, তো ওইটাই আবার আপনার আমাদের লাগছে ২০ লাখ টাকার ওপরে কেউ লোন নিতে গেলে আর ১০ লাখ টাকার ওপরে কোনো আমানত খুলতে গেলে।

“আমি লম্বা করে অনেক বিস্তৃত বলতে পারি, সংক্ষেপে বললে এর ফলে অনেক টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে ঢুকছে না।”

তিনি আমানতের বিপরীতে যে আবগারি শুল্ক কাটা হয় তা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন।

বীমা খাত নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “মোটর বীমা আবশ্যিক ছিল। যেটা করতে ২০০-২৫০ টাকা লাগে, সেটাও উঠে গেছে। এগুলো উঠে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মধ্যে কোনো পেশাদারিত্ব দাঁড়ায় নাই। না দাঁড়ানোর কারণে আমার কর পেশাজীবী নাই।”

তিনি বলেন, পুরো বীমা খাত নিয়েই মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব। এখনও বীমা কোম্পানির অনুমোদনের জন্য বহু লোক দাঁড়িয়ে যাবে। অথচ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘ব্যবসা নেই’।

“আমিতো এমনও দেখেছি এমনকি কর্মচারীরা অবসরে গিয়েছে অবসর সুবিধাও দেয় না। এত অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে।“

এ খাতে শৃঙ্খলা আনার ওপর জোর দেন তিনি।

আলোচনায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করে।

Tags: প্রশ্ন ‘কাপড়ের আড়ালে মদ আমদানি এভাবেই দেশ চলবে এনবিআর চেয়ারম্যানের