• আন্তর্জাতিক
  • ভেনেজুয়েলার ‘জব্দ’ করা তেল ও জাহাজ বিক্রি করে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ভেনেজুয়েলার ‘জব্দ’ করা তেল ও জাহাজ বিক্রি করে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ভেনেজুয়েলার ‘জব্দ’ করা তেল ও জাহাজ বিক্রি করে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

মাদুরো প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াতে আরও কঠোর ওয়াশিংটন; জব্দকৃত জ্বালানি সরাসরি ‘কৌশলগত রিজার্ভে’ নেওয়ারও ইঙ্গিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার ওপর ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হওয়া ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকার ও তাতে থাকা অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) বিক্রি করে দেওয়া হতে পারে। বিকল্প হিসেবে এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নিজস্ব ভাণ্ডারে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে হোয়াইট হাউস।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন তাদের কঠোর অবস্থান থেকে এক চুলও সরবে না।

কৌশলগত রিজার্ভে তেল ব্যবহারের পরিকল্পনা

আটককৃত তেল নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, সে বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “হয়তো আমরা এই তেল বিক্রি করে দেব অথবা আমরা এটি রেখে দেব। এমনকি আমাদের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে (Strategic Petroleum Reserve) এটি যুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। শুধু তেলই নয়, যে জাহাজগুলোতে করে এই তেল পরিবহন করা হচ্ছিল, সেগুলোও আমরা আমাদের জিম্মায় রাখছি।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য মাদুরো সরকারের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। ভেনেজুয়েলার আয়ের প্রধান উৎস তেলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে কারাকাসকে আন্তর্জাতিক বাজারে কোণঠাসা করাই মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

জলদস্যুতার অভিযোগ কারাকাসের

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, ভেনেজুয়েলা সরকার অবৈধ মাদক ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ সচল রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে এই তেলের রাজস্ব (Revenue) ব্যবহার করছে। এই অজুহাতেই মার্কিন নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড দক্ষিণ আমেরিকা অভিমুখে থাকা তেলের ট্যাংকারগুলোতে একের পর এক অবরোধ চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে ভেনেজুয়েলা। কারাকাস এই জব্দ করার ঘটনাকে সরাসরি ‘জলদস্যুতা’ (Piracy) বলে নিন্দা জানিয়েছে। মাদুরো প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র গায়ের জোরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠন করছে।

সমুদ্রে শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনা

চলতি মাসেই মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার দুটি বড় তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে, যার মধ্যে সর্বশেষটি আটক করা হয় গত শনিবার। এখানেই শেষ নয়, মার্কিন উপকূলরক্ষী বাহিনী (US Coast Guard) বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তৃতীয় একটি তেল ট্যাংকারের পিছু ধাওয়া করছে বলে জানা গেছে। সমুদ্রে এই টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই সর্বশেষ হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গ্লোবাল মার্কেটে প্রভাবের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন (Supply Chain) বিঘ্নিত হতে পারে। ভেনেজুয়েলার মতো তেলসমৃদ্ধ দেশের সম্পদ এভাবে জব্দ ও বিক্রির ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন কোনো অস্থিরতা তৈরি করে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নিকোলাস মাদুরোর পদত্যাগের দাবিতে চলমান মার্কিন ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার ক্যাম্পেইন’-এর একটি অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের এই মারমুখী অবস্থান শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকার রাজনীতিতে কোনো বড় পরিবর্তন আনে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব মহল।

Tags: donald trump nicolas maduro us sanctions energy crisis oil seizure venezuela news tanker seized global politics