• আন্তর্জাতিক
  • তছনছ প্রতিরক্ষা, নেই খামেনি; তবুও তেহরানের মসনদ টলাতে ব্যর্থ ট্রাম্প-নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে চাঞ্চল্য

তছনছ প্রতিরক্ষা, নেই খামেনি; তবুও তেহরানের মসনদ টলাতে ব্যর্থ ট্রাম্প-নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে চাঞ্চল্য

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
তছনছ প্রতিরক্ষা, নেই খামেনি; তবুও তেহরানের মসনদ টলাতে ব্যর্থ ট্রাম্প-নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে চাঞ্চল্য

১৩ দিনের বিধ্বংসী হামলায় শীর্ষ নেতৃত্ব ও খামেনিকে হারিয়েও অটুট ইরানি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ; ‘রেজিম চেঞ্জ’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিচ্ছে খোদ মার্কিন ইনটেলিজেন্স রিপোর্ট।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক আগ্রাসন (Military Aggression) চললেও দেশটির শাসনক্ষমতা বা শাসনতান্ত্রিক কাঠামোয় এখনো কোনো ধসের লক্ষণ নেই। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের হারিয়েও তেহরানের বর্তমান নেতৃত্ব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছেন খোদ মার্কিন গোয়েন্দারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

খামেনির উত্তরসূরি ও ক্ষমতার ধারাবাহিকতা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর পশ্চিমাদের ধারণা ছিল, ইরানি ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যে বড় ধরনের ফাটল ধরবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেমদের পর্ষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করে ক্ষমতার শূন্যতা পূরণ করেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর (Intelligence Agencies) বিশ্লেষণ বলছে, দেশটির জনগণের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ এখনো যথেষ্ট সংহত এবং শাসনব্যবস্থা পতনের কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নেই।

টার্গেট যখন ‘রেজিম চেঞ্জ’: ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা অভিযান শুরুর প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরানে সরকার উৎখাত বা রেজিম চেঞ্জ (Regime Change) এবং নেতৃত্ব পরিবর্তনই এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য। কিন্তু সংঘাত ১৩তম দিনে গড়ালেও সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কোনো স্পষ্ট পথ খুঁজে পাচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System), পারমাণবিক স্থাপনা (Nuclear Facilities) এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) কমান্ড সেন্টারগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবুও রাজনৈতিকভাবে তেহরানকে পঙ্গু করা সম্ভব হয়নি।

তেলের বাজারে অস্থিরতা ও ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ এদিকে ইরানের এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। অভ্যন্তরীণভাবে রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা ডনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০০৩ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের এই বৃহত্তম সামরিক অভিযান তিনি ‘শিগগিরই’ শেষ করতে চান। তবে ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব যেভাবে শক্ত অবস্থানে অনড় রয়েছে, তাতে ওয়াশিংটনের জন্য একটি ‘সম্মানজনক সমাপ্তি’ টানা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

স্থল অভিযানের কি কোনো সম্ভাবনা আছে? রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরাইল বর্তমান ইরানি সরকারকে পুরোপুরি নির্মূল করতে চাইলেও কেবল বিমান হামলা চালিয়ে (Air Strike) তা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সরকারকে পুরোপুরি উচ্ছেদ করতে হলে এবং সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামার সাহস জোগাতে হয়তো একটি বড় ধরনের স্থল অভিযানের (Ground Invasion) প্রয়োজন হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই ইরানে স্থল সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি উড়িয়ে না দিলেও, আধুনিক যুদ্ধের সমীকরণে এটি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো তাদের টিকে থাকার সক্ষমতা (Survival Capacity) প্রদর্শন করছে। হোয়াইট হাউসের শীর্ষ সহযোগীরা এখন দাবি করছেন যে, সরকার উৎখাত তাদের মূল লক্ষ্য নয়; কিন্তু গোয়েন্দা রিপোর্টগুলো বলছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ সংহতি নষ্ট করতে না পারাটা মার্কিন ও ইসরাইলি রণকৌশলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tags: middle east donald trump ayatollah khamenei regime change us intelligence iran war israel attack mojtaba khamenei