কৃষি বিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে এখন প্রায় সারা বছরই বাজারে দেখা মেলে টক-মিষ্টি স্বাদের রসালো ফল আনারসের। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি কেবল রসনাবিলাসই নয়, বরং শরীরের জন্য এক প্রাকৃতিক ‘পাওয়ারহাউস’ হিসেবে কাজ করে। তবে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মনে একটি প্রশ্ন প্রায়ই ঘুরপাক খায়—ফলটি কি খালি পেটে খাওয়া নিরাপদ, নাকি ভরা পেটে খেলে মিলবে বেশি পুষ্টি? এই প্রতিবেদনে আনারসের গুণাগুণ এবং সঠিক সেবনবিধি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরা হলো।
পুষ্টিগুণের আধার ও ইমিউন বুস্টার
আনারস মূলত ভিটামিন এ এবং সি-এর একটি চমৎকার উৎস। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ পুষ্টির ঘাটতি পূরণে অত্যন্ত কার্যকর। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ভাইরাসজনিত ঠান্ডা, কাশি এবং জ্বর প্রতিরোধের জন্য আনারস একটি ‘Natural Medicine’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এমনকি নাক দিয়ে পানি পড়া, গলাব্যথা কিংবা ব্রঙ্কাইটিসের মতো সমস্যায়ও আনারসের রস ওষুধের বিকল্প হিসেবে সমাদৃত।
খালি পেটে আনারস: বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
সাধারণত অনেকের ধারণা ফল খালি পেটে খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে, তবে আনারসের ক্ষেত্রে পুষ্টিবিদদের পর্যবেক্ষণ কিছুটা ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে খালি পেটে আনারস খাওয়া শরীরের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে। এটি শরীরের ‘Metabolism’ ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। তবে যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সকালের নাস্তার পর ফল হিসেবে আনারস গ্রহণ করাই বেশি নিরাপদ। উভয় পদ্ধতিতেই ফলটি তার পূর্ণ পুষ্টিগুণ বজায় রাখে।
অন্ধত্ব ও ক্যানসার প্রতিরোধে শক্তিশালী ভূমিকা
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আনারস মানুষের চোখের রেটিনা সুরক্ষায় অতুলনীয়। এতে থাকা ‘Beta Carotene’ বয়সজনিত অন্ধত্ব বা ‘Macular Degeneration’ হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। এছাড়া আনারসে উপস্থিত শক্তিশালী ‘Antioxidants’ শরীরের কোষগুলোকে ফ্রি-রেডিকেলের বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা করে, যা মূলত ক্যানসার এবং হৃদরোগের (Heart Disease) মতো মরণব্যাধি প্রতিরোধে সহায়ক।
সৌন্দর্য চর্চা ও তারুণ্য ধরে রাখতে আনারস
শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য নয়, ত্বকের জেল্লা ফেরাতেও আনারসের জুড়ি মেলা ভার। এতে থাকা ‘Alpha Hydroxy Acid’ (AHA) ত্বকের বলিরেখা দূর করে বার্ধক্য রোধে সহায়তা করে। ব্রণের সমস্যা দূর করতে এবং মৃত কোষ সরিয়ে ত্বকের সতেজতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত আনারস খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। এছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণ (Weight Management), দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা এবং মজবুত হাড় গঠনেও এই ফলটি টনিকের মতো কাজ করে।
হজম শক্তি ও সুস্থতা
যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে, তাদের ডায়েট লিস্টে (Diet List) আনারস রাখা অত্যন্ত জরুরি। এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। পুষ্টিবিদদের মতে, তীব্র গরমে দেহকে সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তত কয়েক টুকরো আনারস রাখা হতে পারে আপনার সুস্বাস্থ্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
তাই দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্য এবং উজ্জ্বল ত্বকের অধিকারী হতে আজই আপনার দৈনিক পুষ্টি পরিকল্পনায় এই রসালো ও পুষ্টিকর ফলটি অন্তর্ভুক্ত করুন।