সুস্থ ও সবল শরীরের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম বা 'Workout'-এর কোনো বিকল্প নেই। তবে যান্ত্রিক জীবন আর সময়ের অভাবে আমরা যখন সুযোগ পাই, তখনই ব্যায়ামের ম্যাট বিছিয়ে দিই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ঘড়ির কাঁটা দেখে কি শরীরের কার্যকারিতা নির্ধারিত হয়? সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল সময়ে শরীরচর্চা করলে লাভের চেয়ে 'Injury' বা চোট পাওয়ার ঝুঁকিই বেশি থাকে। আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে চান, তবে সকাল বনাম বিকেলের এই দ্বন্দ্বে বিজ্ঞানের মতামত জেনে নেওয়া জরুরি।
সকাল বনাম বিকেল: গবেষণায় জয়ী কে?
দিনের যেকোনো সময় ব্যায়াম করা শরীরের জন্য ভালো হলেও, বৈজ্ঞানিক মাপকাঠিতে সকালের তুলনায় বিকেলের শরীরচর্চাকে কিছুটা বেশি কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে। এর পেছনে মূলত কাজ করে মানবশরীরের 'Circadian Rhythm' বা অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি।
পেশির নমনীয়তা ও চোটের ঝুঁকি:
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের শরীরের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে এবং পেশিগুলো বেশ আড়ষ্ট ও শক্ত থাকে। এই অবস্থায় হঠাৎ কোনো ভারী ব্যায়াম শুরু করলে পেশিতে টান লাগা বা হাড়ের সন্ধিস্থলে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে, বিকেলের দিকে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বৃদ্ধি পায়, যা পেশিকে অনেক বেশি নমনীয় (Flexible) এবং সক্রিয় করে তোলে।
বিকেলের শরীরচর্চায় বাড়তি সুফল
১. মেটাবলিজম ও ওয়েট ট্রেনিং: দিনের শেষভাগে আমাদের 'Metabolism' বা বিপাক প্রক্রিয়া তুঙ্গে থাকে। ফলে এই সময়ে 'Weight Training' বা ভারী ওজন তোলার ব্যায়াম করলে শরীর দ্রুত সাড়া দেয়। এতে চোট পাওয়ার ঝুঁকি যেমন কমে, তেমনি পেশি গঠনের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হয়। ২. স্ট্রেস রিলিফ: সারাদিনের কাজের চাপের পর বিকেলে ব্যায়াম করলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ হরমোন ক্ষরিত হয়, যা মানসিক ক্লান্তি বা 'Stress' দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।
ভোরে ব্যায়াম করতে চাইলে যা মনে রাখবেন
অনেকেই আছেন যারা ভোরের শান্ত পরিবেশে 'Cardio' বা দৌড়াতে পছন্দ করেন। তাদের জন্য ‘ওয়ার্মআপ’ (Warm-up) করা বাধ্যতামূলক। শরীরকে পুরোপুরি প্রস্তুত না করে সরাসরি তীব্র ব্যায়ামে যাওয়া শরীরের 'Cardiovascular System'-এর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অন্তত ১০-১৫ মিনিট হালকা স্ট্রেচিং বা হাঁটাচলার মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করে তবেই মূল ব্যায়াম শুরু করা উচিত।
সুস্থ থাকতে বিশেষজ্ঞ নির্দেশিত ৩টি গোল্ডেন রুল
১. সময়সীমা ও ধারাবাহিকতা: শরীরকে ফিট রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করা আবশ্যক। নিজের সহনশীলতা বা 'Stamina' অনুযায়ী এই সময় বাড়ানো যেতে পারে, তবে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ২. সঠিক ব্যায়াম নির্বাচন: পেশি মজবুত করতে এবং শরীরের গঠন ঠিক রাখতে বিকেলের সময়টিকে 'Weight Training'-এর জন্য বরাদ্দ রাখুন। আর ভোরে করতে পারেন যোগব্যায়াম বা প্রাণায়াম। ৩. ডায়েট ও হাইড্রেসন: শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না, পর্যাপ্ত 'Protein' এবং পুষ্টিকর খাবার সম্বলিত 'Balanced Diet' নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যায়ামের সময় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
পরিশেষে, আপনার শরীরের জন্য কোনটি সঠিক, তা বুঝতে নিজের শরীরের ভাষার দিকে মনোযোগ দিন। যদি বিকেলে ব্যায়াম করে আপনি বেশি শক্তি অনুভব করেন, তবে সেটিই আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে ব্যায়ামই পারে আপনাকে দীর্ঘস্থায়ী ও নিরোগ জীবনের নিশ্চয়তা দিতে।