• জীবনযাপন
  • কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে চান? ক্রিয়েটিনিন নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে এই ৫ খাবার

কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে চান? ক্রিয়েটিনিন নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে এই ৫ খাবার

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে চান? ক্রিয়েটিনিন নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে এই ৫ খাবার

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা ও ডায়াবেটিসের থাবায় বাড়ছে কিডনি রোগ; রক্তে বিষাক্ত টক্সিন দূর করতে এবং কিডনি ফাংশন সচল রাখতে ডায়েটে আনুন আমূল পরিবর্তন।

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ‘সাইলেন্ট কিলার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কিডনি রোগ। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, হাই ব্লাড প্রেসার এবং ডায়াবেটিসের আধিক্যের কারণে বিশ্বজুড়ে কিডনি বিকল হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, কিডনির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ওষুধের চেয়েও কার্যকর ভূমিকা পালন করে সঠিক ‘ডায়েট চার্ট’ বা পথ্য। বিশেষ করে রক্তে ক্রিয়েটিনিন (Creatinine) নামক বর্জ্যের মাত্রা বেড়ে যাওয়া কিডনি অকেজো হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে এই মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

জেনে নিন এমন ৫টি জাদুকরী খাবার সম্পর্কে, যা আপনার কিডনিকে সুরক্ষিত রাখতে চিকিৎসকরা প্রায়ই পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

১. ডিমের সাদা অংশ: উচ্চমানের প্রোটিন সোর্স

কিডনি রোগীদের জন্য প্রোটিন গ্রহণ একটি জটিল বিষয়। সাধারণ প্রোটিন কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও ডিমের সাদা অংশ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এটি লিন প্রোটিনের (Lean Protein) অন্যতম উৎস। এতে পটাশিয়াম ও ফসফরাসের পরিমাণ অনেক কম থাকে, যা শরীরের টিস্যু মেরামত করতে সাহায্য করে কিন্তু কিডনিকে বাড়তি পরিশ্রমে বাধ্য করে না। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে কিডনি ফাংশন (Kidney Function) সচল রাখতে এটি অপরিহার্য।

২. রসুন: প্রদাহ নাশক প্রাকৃতিক মহৌষধ

রসুনকে বলা হয় প্রাকৃতিক অ্যান্টি-বায়োটিক। এতে থাকা অ্যালিসিন নামক উপাদান কিডনির প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমাতে সাহায্য করে। রসুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি এবং বি-৬। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, রসুন খাবারে লবণের বিকল্প স্বাদ যোগ করে। কিডনি রোগীদের লবণের পরিমাণ কমিয়ে রান্নায় রসুনের ব্যবহার বাড়ালে তা রক্তে সোডিয়ামের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং রক্তনালীকে সুস্থ রাখে।

৩. বাঁধাকপি: পটাশিয়ামমুক্ত পুষ্টির ভাণ্ডার

কিডনি-বান্ধব সবজির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাঁধাকপি। বেশিরভাগ সবজিতে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম থাকলেও বাঁধাকপিতে এর পরিমাণ নগণ্য। এতে থাকা ভিটামিন কে, সি এবং বি কমপ্লেক্স শরীরের ইমিউন সিস্টেম (Immune System) বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ভোজ্য আঁশ বা ফাইবার থাকায় এটি হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং রক্তে টক্সিনের মাত্রা কমিয়ে আনে।

৪. পেঁয়াজ: টক্সিন দূর করার কার্যকর মাধ্যম

কিডনি জনিত সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্য কাঁচা বা রান্না করা পেঁয়াজ অত্যন্ত উপকারী। পেঁয়াজে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট (Antioxidant) রক্ত পরিশোধনে সাহায্য করে। এটি কিডনি ফিল্টারেশনের ওপর চাপ কমায় এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে সহায়তা করে। এছাড়া পেঁয়াজের উপাদানগুলো হার্টের স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও সহায়ক।

৫. আনারস: মেটাবলিজমের বিশ্বস্ত বন্ধু

কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই সব ধরনের ফল খাওয়া বন্ধ করে দেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, আনারস কিডনি রোগীদের জন্য একটি নিরাপদ এবং পুষ্টিকর বিকল্প। আনারসে থাকা ব্রোমেলাইন নামক এনজাইম শরীরের বিপাক হার বা মেটাবলিজম (Metabolism) উন্নত করে। এছাড়া এতে থাকা প্রচুর ফাইবার ও ম্যাগনেসিয়াম কিডনির কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং শরীরে জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

কিডনি রোগের জটিলতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই এই খাবারগুলো ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ নেফ্রোলজিস্ট বা ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। মনে রাখবেন, কেবল খাবার নয়, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শরীরচর্চাই পারে আপনার কিডনিকে দীর্ঘকাল সচল রাখতে।

Tags: health tips healthy food metabolism booster medical news kidney health creatinine control kidney diet detox diet