টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের এমন বিদায় আগে কেউ কল্পনা করেনি। ২০০৯ সালের পর আবারও গ্রুপ পর্ব থেকেই ফিরতি টিকিট কাটতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। অ্যাশেজের দাপুটে পারফরম্যান্সের রেশ কাটতে না কাটতেই কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে অজিদের এই ভরাডুবিতে ক্রিকেট বিশ্বে চলছে জোর আলোচনা। আর এই ব্যর্থতায় রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটিং কিংবদন্তি ম্যাথু হেইডেন। তার মতে, দলের এই পতনের মূলে রয়েছে অতি-আত্মতুষ্টি এবং ভঙ্গুর Management।
ঐতিহাসিক ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নদের বিদায় ঘণ্টা বেজেছিল গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি), যখন তারা শ্রীলঙ্কার কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়। এরপরের দিন আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হলে গাণিতিকভাবেই অস্ট্রেলিয়ার টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। বিশ্বকাপের ঠিক আগে চোটের কারণে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের ছিটকে পড়া দলকে দুর্বল করলেও, হেইডেন মনে করেন আসল সমস্যা ছিল মানসিকতায়।
হেইডেনের নিশানায় ‘আত্মতুষ্টি’ ও ম্যানেজমেন্ট ম্যাথু হেইডেন মনে করেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং টিম ম্যানেজমেন্ট পরিস্থিতি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, "দল নির্বাচন এবং প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমাদের ভুল পথে চালিত করা হয়েছে। সমস্যাটা অনেকটা ইংল্যান্ডের মতো—সবকিছু ঠিক আছে এমন এক ধরনের ‘Complacency’ বা আত্মতুষ্টিতে ভুগছে দল। এটি আসলে বাস্তবতাকে অস্বীকার করা এবং এক ধরনের দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফসল।"
নির্বাচন বিতর্ক: ক্যামেরুন গ্রিন বনাম ম্যাট রেনশ দলের অন্যতম দামী ক্রিকেটার ক্যামেরুন গ্রিনের পারফরম্যান্স নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন হেইডেন। আইপিএলে আকাশচুম্বী Market Value থাকলেও বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গ্রিনের ব্যাট কথা বলেনি। হেইডেনের ভাষায়, "ব্যাট হাতে গ্রিনকে দেখে মনে হয়েছে তার কোনো আত্মবিশ্বাস নেই। অথচ ম্যাট রেনশ কোনো মানসিক বোঝা ছাড়াই ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আসছিল। তাকে এভাবে অবহেলা করা ঠিক হয়নি। এমনকি টেস্ট দলেও তার জায়গা থাকা উচিত ছিল।"
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কবার্তা অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের অবকাঠামো এবং ঠাসা ক্রীড়াসূচি (Schedule) নিয়েও কথা বলেছেন হেইডেন। তিনি মনে করেন, ক্রিকেটারদের সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে সূচি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। "ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার উচিত তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ অর্থাৎ ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত ও পেশাদার ব্যবস্থাপনায় আরও যত্নশীল হওয়া। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে তারা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, সেই বিষয়টিও এখন বড় প্রশ্ন," যোগ করেন হেইডেন।
বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড এখন একটি ‘Forensic Review’ বা পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে হেইডেনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের এমন কড়া সমালোচনা দলের ভেতরকার অস্থিরতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।