টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিদায় কেবল একটি হার নয়, বরং অজি ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় এক ধাক্কা। আর এই চরম ব্যর্থতার পর আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ছেন দেশটির সাবেক কিংবদন্তিরা। বিশেষ করে, দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার স্টিভ স্মিথকে স্কোয়াডে রেখেও একাদশে সুযোগ না দেওয়াকে ‘অপমানজনক’ বলে অভিহিত করেছেন সাবেক গ্রেট মার্ক ওয়াহ। লঙ্কানদের বিপক্ষে ‘বাঁচামরা’র ম্যাচে যখন অজিরা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছিল, তখন ড্রেসিংরুমে স্মিথের বসে থাকা মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
স্মিথকে নিয়ে নির্বাচকদের ‘রহস্যময়’ নাটক সবশেষ বিগ ব্যাশে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াডে জায়গা পাননি স্টিভ স্মিথ। তবে পরিস্থিতির নাটকীয়তায় প্রথমে মিচেল মার্শ এবং পরে জশ হ্যাজেলউডের ইনজুরিতে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু দলে থেকেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অজিরা যখন ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ৭৭ রানের ব্যবধানে ১০ উইকেট হারায়, তখন সাইডলাইনে বসেই দলের করুণ পরিণতি দেখতে হয়েছে স্মিথকে।
মার্ক ওয়াহর কড়া সমালোচনা অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার মার্ক ওয়াহ নির্বাচকদের এই পরিকল্পনাকে কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছেন। এসইএনকিউ (SENQ) ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "নির্বাচনে তারা পুরোপুরি ভুল করেছে। আপনার দলের সেরা খেলোয়াড়—যে কিনা বাকিদের চেয়ে অনেক ব্যবধানে এগিয়ে—সেই স্টিভ স্মিথ সাইডলাইনে বসে আছে। সত্যি বলতে, এটি স্মিথের প্রতি এক ধরনের অপমান। আমার মনে হয় শুরু থেকেই এই ক্যাম্পেইন নির্বাচন এবং চোট সমস্যায় জর্জরিত ছিল।"
ওয়াহ আরও যোগ করেন, "বিগ ব্যাশে সে সবার চেয়ে আলাদা মানের ব্যাটিং করেছে। সে একজন দুর্দান্ত ফিল্ডার এবং স্পিনের বিপক্ষে অসাধারণ খেলে। এমন কন্ডিশনে তাকে একাদশে না রাখাটা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে রহস্যজনক সিদ্ধান্ত।"
‘আমরা প্রতারিত হয়েছি’—ইয়ান হিলি কেবল মার্ক ওয়াহ নন, সাবেক উইকেটকিপার ইয়ান হিলিও নির্বাচকদের একহাত নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ফর্মে থাকা ম্যাট রেনশকে একাদশের বাইরে রাখা এবং ভারসাম্যহীন বোলিং আক্রমণই অস্ট্রেলিয়ার পতনের মূল কারণ। হিলি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রেনশ হাই-ভিজ ভেস্ট (High-viz vest) পরে ড্রেসিংরুমে কী করছিল? আমরা যে দল মাঠে নামিয়েছি, সেখানে কোনো ক্লাসের ছাপ ছিল না। আমার মনে হয়, আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।"
কন্ডিশন বিচারে স্মিথের প্রয়োজনীয়তা সাবেক ব্যাটার সাইমন ক্যাটিচও মনে করেন, শ্রীলঙ্কার স্পিননির্ভর আক্রমণের বিপক্ষে স্মিথই হতে পারতেন সেরা অস্ত্র। ক্যাটিচের মতে, "পাওয়ার প্লের পর স্পিনের বিপক্ষে আমাদের সেরা ব্যাটার কে? অবশ্যই স্মিথ। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল বা ক্যামেরন গ্রিনদের ফর্ম যখন পড়তির দিকে, তখন স্মিথ বা রেনশ’র মতো টেকনিক্যাল ব্যাটারদের বাইরে রাখাটা আত্মঘাতী ছিল।"
অজি স্পিনার অ্যাস্টন অ্যাগারও এই বিদায়কে এক বড় ‘ধাক্কা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, হারতে অপছন্দ করা এই অস্ট্রেলিয়ান দল কোনোভাবেই এমন বিপর্যয় মেনে নিতে পারছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইংল্যান্ডের ‘বাজবল’ স্টাইলের মতো অস্ট্রেলিয়াও তাদের আগ্রাসী ব্যাটিং ফর্মুলা নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ছিল। কিন্তু এশীয় কন্ডিশনে কৌশলী শ্রীলঙ্কা ও ভারতের বিপক্ষে সেই শক্তির লড়াই ধোপে টেকেনি। অদূরদর্শী Selection Policy এবং অতি-আত্মতুষ্টিই মূলত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।