চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে হার মানেই পাকিস্তান ক্রিকেটে অগ্নিকুণ্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের High-Voltage ম্যাচে চিরশত্রুদের কাছে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেই আগুনের আঁচ লেগেছে বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও শাদাব খানের গায়ে। দেশের সাবেক কিংবদন্তিরা যখন এই ত্রয়ীকে দল থেকে ছেঁটে ফেলার আওয়াজ তুলছেন, ঠিক তখনই পাল্টা আক্রমণে মুখ খুললেন অলরাউন্ডার শাদাব খান। তার সোজাসাপ্টা কথা—যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাঁরা নিজেরাও কখনো বিশ্বকাপে ভারতকে হারাতে পারেননি।
সাবেকদের সমালোচনায় বিদ্ধ ‘সিনিয়র’ ত্রয়ী ভারতের কাছে লজ্জাজনক হারের পর পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি এবং ব্যাটিং কিংবদন্তি মোহাম্মদ ইউসুফ বর্তমান দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের কড়া সমালোচনা করেন। ইউসুফ সরাসরি মন্তব্য করেন, "শাহিন, বাবর ও শাদাবের সময় শেষ। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে এখন নতুন পারফর্মার দরকার।" অন্যদিকে, শহিদ আফ্রিদি এক ধাপ এগিয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে এই তিনজনকে বেঞ্চে বসিয়ে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার। সাবেকদের এমন আক্রমণাত্মক অবস্থানে সরগরম হয়ে ওঠে পাকিস্তানের ক্রিকেট পাড়া।
শাদাবের ঐতিহাসিক পাল্টা যুক্তি শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোয় নামিবিয়াকে ১০২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে Super Eight নিশ্চিত করার পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন শাদাব খান। সেখানেই অবদমিত ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। সাবেক ক্রিকেটারদের প্রতি সম্মান রেখেই শাদাব মনে করিয়ে দেন এক রূঢ় বাস্তবতা। তিনি বলেন, "আমাদের সাবেক ক্রিকেটারদের নিজস্ব মতামত আছে। তাঁরা পাকিস্তানের হয়ে দুর্দান্ত খেলেছেন, কিংবদন্তি হয়েছেন। কিন্তু দিনশেষে তাঁরাও বিশ্বকাপে ভারতকে কখনো হারাতে পারেননি। ২০২১ বিশ্বকাপে আমরাই প্রথম সেই অসাধ্য সাধন করে ভারতকে হারিয়েছিলাম।"
শাদাবের এই মন্তব্য মূলত সাবেকদের দিকে এক ধরনের ‘মোক্ষম খোঁচা’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তাঁর মতে, রেকর্ড বই বলছে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র জয়ের কৃতিত্ব বর্তমান এই দলটিরই।
ব্যর্থতা মেনে নিয়েও লক্ষ্যের দিকে অবিচল ভারতের বিপক্ষে পারফরম্যান্স যে আশানুরূপ ছিল না, তা স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি শাদাব। তিনি বলেন, "ভারতের বিপক্ষে আমরা ভুল করেছি, ম্যাচটি আমাদের জেতা উচিত ছিল। তবে সমালোচনা মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। আমাদের লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপ জেতা এবং আমরা আমাদের নির্দিষ্ট Process অনুসরণ করছি।"
দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে শাদাব যোগ করেন, সাহিবজাদা ফারহানের মতো তরুণরা দারুণ ফর্মে আছেন এবং দল সঠিক পথেই আছে। সুপার এইট পর্বে নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে পাকিস্তানকে। এই পর্যায়টি যে কঠিন চ্যালেঞ্জের হবে, তা ভালোই বুঝতে পারছেন শাদাব।
ধর্মীয় আবেগ ও দলের সংকল্প পবিত্র রমজান মাসের আধ্যাত্মিক শক্তিকেও দলের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এই অলরাউন্ডার। শাদাবের ভাষায়, "রমজান শুরু হয়েছে, এটা আমাদের জন্য যেন ১২তম খেলোয়াড়ের (12th Man) মতো কাজ করছে।" এই মানসিক শক্তি নিয়ে সুপার এইট পর্বে ঘুরে দাঁড়াতে চায় ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নরা।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, শাদাবের এই সাহসী অবস্থান পাকিস্তান দলের অন্দরমহলের দৃঢ়তা প্রকাশ করছে। তবে সাবেকদের করা মন্তব্যের এমন সরাসরি জবাব ভবিষ্যতে পাকিস্তান ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।