• আন্তর্জাতিক
  • গাজায় মানবিক বিপর্যয় নিয়ে নীরবতা, নেসেটে দাঁড়িয়ে ইসরাইলের প্রতি পূর্ণ সংহতি নরেন্দ্র মোদীর

গাজায় মানবিক বিপর্যয় নিয়ে নীরবতা, নেসেটে দাঁড়িয়ে ইসরাইলের প্রতি পূর্ণ সংহতি নরেন্দ্র মোদীর

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
গাজায় মানবিক বিপর্যয় নিয়ে নীরবতা, নেসেটে দাঁড়িয়ে ইসরাইলের প্রতি পূর্ণ সংহতি নরেন্দ্র মোদীর

হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা জানালেও ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি নিয়ে শব্দহীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী; ‘নেসেট মেডেল’ পেয়ে অনন্য উচ্চতায় দিল্লি-তেল আবিব কৌশলগত বন্ধুত্ব।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে ইসরাইল পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে নজিরবিহীন লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং উষ্ণ আলিঙ্গনে বরণ করে নেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গার্ড অব অনার গ্রহণের পর দুই নেতা জেরুজালেমে এক বিশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন, যা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত: রুদ্ধদ্বার বৈঠকের নির্যাস

জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে ভবিষ্যৎ সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার রূপরেখা তৈরি হয়েছে। আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI), সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor) শিল্প এবং উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (Defense Equipment) উৎপাদন। নরেন্দ্র মোদি ও নেতানিয়াহুর এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান আদান-প্রদান এবং উচ্চ প্রযুক্তির সমরাস্ত্র রপ্তানি বৃদ্ধি করা। ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে যৌথভাবে যুদ্ধাস্ত্র তৈরির বিষয়েও প্রাথমিক ঐক্যমত তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

নেসেটে ভাষণ: হামাসের নিন্দা ও সংহতি বার্তা

দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষে নরেন্দ্র মোদি ইসরাইলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এর বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের আক্রমণের কথা স্মরণ করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। মোদি তাঁর ভাষণে বলেন, "ভারতের জনগণের গভীর সমবেদনা প্রতিটি হারানো প্রাণের জন্য। প্রতিটি পরিবার যাদের পৃথিবী ৭ অক্টোবরের সেই বর্বর সন্ত্রাসী হামলায় তছনছ হয়ে গেছে, আমরা আপনাদের সেই শোকের অংশীদার।"

তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, বর্তমানের এই সংকটকাল এবং এর পরবর্তী সময়েও ভারত দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়েছে। মোদির এই বক্তব্যকে ইসরাইলের প্রতি ভারতের ‘আনকন্ডিশনাল সাপোর্ট’ বা নিঃশর্ত সমর্থন হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে রহস্যময় নীরবতা

নরেন্দ্র মোদির এই দীর্ঘ ভাষণে যেখানে সন্ত্রাসবাদ এবং ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে সরব উপস্থিতি ছিল, ঠিক সেখানেই অনুপস্থিত ছিল গাজার বর্তমান পরিস্থিতি। ইসরাইলি বাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী ও নৃশংস অভিযানে গত কয়েক মাসে গাজায় ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু। বিশ্বজুড়ে যেখানে এই ‘জেনোসাইড’ বা গণহত্যা নিয়ে উদ্বেগের ঝড় উঠেছে, সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মুখে গাজার সাধারণ মানুষের জন্য একটি শব্দও উচ্চারিত না হওয়াটা ছিল বিস্ময়কর। মানবিক সংকটের এই দিকটিকে পুরোপুরি এড়িয়ে গিয়ে তিনি কেবল ইসরাইলের নিরাপত্তা ও ভারতের মিত্রতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

বিরল সম্মাননা ও ‘প্রকৃত বন্ধুত্ব’

নেসেটে ভাষণ শেষে নরেন্দ্র মোদিকে ইসরাইলি পার্লামেন্টের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘স্পিকার অব দ্য নেসেট মেডেল’-এ ভূষিত করা হয়। উল্লেখ্য, মোদিই বিশ্বের প্রথম কোনো রাষ্ট্রনেতা যিনি এই বিশেষ পদক পাওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। এই সম্মাননা প্রদানকে ভারত-ইসরাইল সম্পর্কের ‘গোল্ডেন এরা’ বা সোনালী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করছে তেল আবিব।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মোদির এই অবস্থানকে ‘প্রকৃত বন্ধুত্ব’ বলে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারত কোনো অজুহাত বা দ্বিধা না রেখে যেভাবে ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতাকেই প্রমাণ করে। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, গাজা ইস্যুতে এই নীরবতা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের চিরাচরিত ভারসাম্যমূলক কূটনৈতিক নীতি বা ‘ব্যালেন্সড ফরেন পলিসি’কে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

Tags: narendra modi israel visit