নেপালের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সুর বাজছে। দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বলয়ে থাকা হিমালয়কন্যা নেপালের শাসনভার এবার যেতে পারে একজন র্যাপারের হাতে। ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে চমক দেখানো বালেন্দ্র শাহ বালেন এখন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম।
পতন ও নতুন প্রজন্মের উত্থান
গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে এক ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান ঘটে। এর ফলে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। সেই সময় বালেন শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে এক বলিষ্ঠ বার্তায় লিখেছিলেন, ‘তোমাদের হত্যাকারীর পদত্যাগ এসেছে। এখন দেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে তোমাদের প্রজন্মকেই। প্রস্তুত থাক।’ তার এই বার্তা নেপালের তরুণ সমাজ তথা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনমত
নেপালে কোনো আনুষ্ঠানিক জনমত জরিপ না থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, বালেন শাহই হতে যাচ্ছেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ বিপিন অধিকারীর মতে, বালেনের জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে যে মানুষ এখন কাঠমান্ডুকে ‘বালেনের শহর’ হিসেবে চেনে। তার দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি) মূলত একটি মধ্যপন্থি দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র নীতিতে ভারসাম্য
চীন ও ভারতের মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় নেপালের রাজনীতিতে দুই প্রতিবেশী দেশের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওলির কমিউনিস্ট পার্টিকে চীনের ঘনিষ্ঠ এবং নেপালি কংগ্রেসকে ভারতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বালেন শাহর আরএসপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট করেছে যে, তারা প্রতিবেশী দুই বৃহৎ শক্তির সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র সম্পর্ক বজায় রাখবে।
সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালীন বালেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবায় অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। প্রথাগত গণমাধ্যম এড়িয়ে ফেসবুকের সাড়ে তিন মিলিয়ন অনুসারীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা বালেনের মূল শক্তি। তবে বিশ্লেষক পুরঞ্জন আচার্যের মতে, তরুণদের সমর্থন থাকলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার জন্য সহজ হবে না, কারণ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে নতুন করে দেশ গড়া বড় এক চ্যালেঞ্জ।