বিনোদন জগতের ঝলমলে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক বিষাদময় অধ্যায় এবার প্রকাশ্যে এল। ছোটপর্দার পরিচিত মুখ জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে শোবিজ অঙ্গনে। এই ঘটনায় কেবল শোক নয়, দানা বেঁধেছে তীব্র ক্ষোভ। ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগ তুলে অভিনেতা জাহের আলভী, তার মা এবং অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নিহতের পরিবার।
থানায় মামলা ও অভিযুক্তদের তালিকা রাজধানীর পল্লবী থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে প্রধান আসামি হিসেবে অভিনেতা জাহের আলভীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইকরার শাশুড়ি এবং আলভীর কথিত পরকীয়া সঙ্গী অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথিকেও এই মামলার আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে কাজ শুরু হয়েছে।
দাম্পত্য কলহ ও পরকীয়ার অভিযোগ ইকরার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ এবং আলভীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন ইকরা। পরিবারের অভিযোগ, আলভী ও অভিনেত্রী তিথির মধ্যকার বিশেষ সম্পর্ক ইকরার দাম্পত্য জীবনে অশান্তির বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়েছিল। আত্মহত্যার আগে ইকরা চরম মানসিক যন্ত্রণার (Mental Distress) মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার বিশ্বাসভঙ্গকারী স্বামী এবং পরিস্থিতির চাপে তিনি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তার মামা শেখ তানভীর আহমেদ।
ফেসবুক পোস্ট ও নেটদুনিয়ার আলোচনা ইকরার মৃত্যুর আগে ও পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) স্বামী-স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি রহস্যময় স্ট্যাটাস ও পোস্ট নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আলভীর পরকীয়া নিয়ে ইকরার করা কিছু পোস্ট এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সহকর্মী ও সাধারণ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় ইকরার অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশের পাশাপাশি দোষীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।
ঘটনার দিনের বিবরণ গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে মিরপুরের বাসায় ইকরাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছায় এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া মামলা দায়েরের পর পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। পল্লবী থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ওই বাসার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং আলভী ও ইকরার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি নিছক আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা প্ররোচনা কাজ করেছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইকরার অকাল মৃত্যু শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের অনেক অপ্রিয় সত্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, আইনি প্রক্রিয়ায় ইকরার পরিবার ন্যায়বিচার পায় কি না।