• বিনোদন
  • ভালুকায় চিরনিদ্রায় ইকরা, স্ত্রীর দাফনেও নেই অভিযুক্ত অভিনেতা আলভী; নেপাল থেকে দেশে ফিরতে ‘টিকিট সংকট’!

ভালুকায় চিরনিদ্রায় ইকরা, স্ত্রীর দাফনেও নেই অভিযুক্ত অভিনেতা আলভী; নেপাল থেকে দেশে ফিরতে ‘টিকিট সংকট’!

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
ভালুকায় চিরনিদ্রায় ইকরা, স্ত্রীর দাফনেও নেই অভিযুক্ত অভিনেতা আলভী; নেপাল থেকে দেশে ফিরতে ‘টিকিট সংকট’!

১৫ বছরের দাম্পত্যের করুণ পরিণতি; স্বামীর পরকীয়া ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে তোলপাড়, জানাজা শেষে নানাবাড়িতে সমাহিত ইভনাথ খান ইকরা।

অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরার নিথর দেহটি এখন কবরের নিস্তব্ধতায়। দাম্পত্য কলহ, পরকীয়া আর সীমাহীন মানসিক যন্ত্রণার অভিযোগ মাথায় নিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া এই গৃহবধূর শেষ বিদায়েও পাশে থাকা হলো না তার জীবনসঙ্গীর। ময়মনসিংহের ভালুকায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হলেও, প্রধান অভিযুক্ত স্বামী আলভী তখনো দেশের বাইরে। এই অনুপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যে নেটদুনিয়ায় বইছে সমালোচনার ঝড়।

অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ বিদায় রোববার (১ মার্চ) বাদ মাগরিব ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার রানদিয়া গ্রামে ইকরার নানাবাড়িতে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে ইকরার ময়নাতদন্ত (Post-mortem) সম্পন্ন হয়। দুপুর ২টায় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মরদেহ নিয়ে স্বজনরা ভালুকার উদ্দেশে রওনা হন। দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ ইকরার এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন উপস্থিত স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

প্রশ্নের মুখে আলভীর অনুপস্থিতি স্ত্রীর এমন করুণ মৃত্যুর সময় অভিনেতা জাহের আলভী বর্তমানে একটি নাটকের শুটিংয়ের (Shooting) কাজে নেপালে অবস্থান করছেন। অভিযোগের আঙুল যার দিকে, সেই জীবনসঙ্গীর শেষ বিদায়ে আলভীর অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যদিও আলভীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই তিনি দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাৎক্ষণিক কোনো ফ্লাইটের টিকিট (Flight Ticket) না পাওয়ার কারণে তিনি সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা (Netizens) এই ব্যাখ্যাকে সহজভাবে নিচ্ছেন না।

দীর্ঘ দাম্পত্য ও পরকীয়ার নেপথ্য কাহিনী ২০১০ সালে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন আলভী ও ইকরা। দীর্ঘ ১৫ বছরের সেই সংসারে তাদের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে সুখী মনে হলেও ইকরার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে তাদের সংসারে চরম অশান্তি বিরাজ করছিল। আলভীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং এর ফলে সৃষ্ট মানসিক নির্যাতনের (Mental Torture) কারণেই ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইকরার কিছু ব্যক্তিগত চ্যাট এবং ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথোপকথনের স্ক্রিনশট ভাইরাল (Viral) হওয়ার পর বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

আইনি পদক্ষেপ ও মামলার অগ্রগতি ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজধানীর পল্লবী থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন, যেখানে প্রধান আসামি করা হয়েছে জাহের আলভীকে। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন আলভীর মা এবং অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) এ কে এম আলমগীর জাহান জানিয়েছেন, পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে মামলার তদন্ত করছে এবং ডিজিটাল এভিডেন্স (Digital Evidence) সংগ্রহের কাজ চলছে।

একটি সাজানো জীবনের মর্মান্তিক ইতি ইকরার এই মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের বিয়োগান্তক ঘটনা নয়, বরং শোবিজ জগতের গ্ল্যামারের আড়ালে থাকা অন্ধকার অধ্যায়কেও সামনে নিয়ে এসেছে। পরকীয়া ও মানসিক চাপের কারণে একজন মা ও স্ত্রীর এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এখন উত্তাল সামাজিক মাধ্যম। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন খতিয়ে দেখছে, ঠিক কোন পরিস্থিতিতে ইকরা এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।