মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তাপ এবার আছড়ে পড়ল বিনোদন জগতের অন্দরে। যুদ্ধের রণদামামায় উত্তপ্ত দুবাইয়ের বিলাসবহুল পাম জুমেইরা (Palm Jumeirah) এলাকা। আর এই অশান্ত পরিস্থিতির মাঝেই পুত্র ইউভানকে নিয়ে আটকে পড়েছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি। এই ঘটনায় ওপার বাংলায় তার পরিবার ও ভক্ত মহলে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্ত্রী ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন টলিউডের বিশিষ্ট নির্মাতা ও বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী।
বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল পর্যটন নগরী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দুবাইয়ের পরিস্থিতি বেশ থমথমে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পাম জুমেইরা এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত একাধিক হোটেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Explosion) ঘটনা ঘটে। শুভশ্রী ও তার পুত্র ইউভান যে হোটেলের একটি লাক্সারি সুইটে (Hotel Suite) অবস্থান করছেন, তার খুব কাছেই এই ধ্বংসলীলা চলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুবাই সরকার তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আকাশসীমা (Airspace) বন্ধ করে দেয়। ফলে কোনো বিমান ওঠানামা করতে না পারায় দেশটিতে কার্যত বন্দি হয়ে পড়েছেন এই অভিনেত্রী।
উদ্বিগ্ন রাজ চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া কলকাতায় বসে পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন রাজ চক্রবর্তী। তিনি জানান, ছেলের স্কুলের ছুটি থাকায় শুভশ্রী কয়েক দিন আগে দুবাই ভ্রমণে গিয়েছিলেন। রাজ বলেন, "ছেলের আবদার মেটাতেই শুভশ্রী ওখানে গিয়েছিল। সেখানে ওদের কিছু পারিবারিক বন্ধুও রয়েছেন। বর্তমানে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে যোগাযোগ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সবশেষ পাওয়া খবরে জানতে পেরেছি তারা নিরাপদেই আছেন। পরিচিত কিছু মানুষ পাশে থাকায় কিছুটা মানসিক স্বস্তি পাচ্ছি, তবে উৎকণ্ঠা কাটছে না।"
নিরাপত্তা প্রটোকল ও বর্তমান অবস্থা দুবাইয়ের বর্তমান ডামাডোলে বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর প্রটোকল (Safety Protocol) অনুসরণ করছে দেশটির প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত শুভশ্রী ও ইউভানকে তাদের হোটেল রুমেই অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আকাশপথ পুনরায় সচল না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। রাজ চক্রবর্তী আরও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সরকারি কোনো বিশেষ সহায়তা প্রত্যাশা না করে তিনি পরিস্থিতির স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করছেন। দুই-এক দিনের মধ্যে এয়ারলাইনস (Airlines) পরিষেবা স্বাভাবিক হলে ইউভানকে নিয়ে শুভশ্রী কলকাতায় ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের প্রার্থনা শুভশ্রী ও তার ছোট্ট ছেলের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (Social Media) উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। ভক্তরা অভিনেত্রীর দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রার্থনা করছেন। দুবাইয়ের মতো একটি নিরাপদ পর্যটন কেন্দ্রে এমন আকস্মিক অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক ট্রাভেল রুটগুলোতেও (Travel Routes) প্রভাব ফেলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি কবে শান্ত হবে এবং শুভশ্রী গাঙ্গুলি নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবেন কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন তার অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষী।