বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানোর ঠিক আগের মুহূর্তে থমকে গেলেন লিওনেল মেসি। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের (CONCACAF Champions Cup) মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ন্যাশভিল এসসি-র বিপক্ষে জয় তুলে নিতে ব্যর্থ হয়েছে ইন্টার মায়ামি। গোলশূন্য ড্র হওয়ার ফলে যেমন মায়ামির জয়যাত্রা কিছুটা মন্থর হয়েছে, তেমনি ফুটবল জাদুকর মেসির ক্যারিয়ারের ৯০০তম গোলের মাইলফলক (Milestone) ছোঁয়ার মুহূর্তটিও দীর্ঘায়িত হলো।
মাইলফলকের সামনে ন্যাশভিলের দেওয়াল ন্যাশভিলের জিওডিস পার্কে অনুষ্ঠিত ‘রাউন্ড অব সিক্সটিন’-এর (Round of 16) এই প্রথম লেগে সবার চোখ ছিল মেসির ওপর। গত শনিবার ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে চোখ ধাঁধানো এক গোল করে নিজের ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা ৮৯৯-এ নিয়ে গিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ভক্তরা আশা করেছিলেন, ন্যাশভিলের বিপক্ষে জালের দেখা পেলেই পূর্ণ হবে সেই ঐতিহাসিক ৯০০ গোলের কোটা। কিন্তু ন্যাশভিলের গোলরক্ষক ব্রায়ান শকের অতিমানবিক পারফরম্যান্সের সামনে এদিন মায়ামির ফরোয়ার্ডরা ছিলেন অসহায়। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মেসির এক বুলেট গতির শট প্রতিহত করে মায়ামিকে হতাশায় ডুবান শক।
পরিসংখ্যান বনাম মাঠের বাস্তবতা ম্যাচের পরিসংখ্যানে (Statistics) চোখ বোলালে দেখা যায়, বল দখলে ইন্টার মায়ামি ৫৯ শতাংশ সময় এগিয়ে ছিল। তবে পজেশন (Possession) ধরে রাখলেও কার্যকরী আক্রমণ করার ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল স্বাগতিক ন্যাশভিল। পুরো ম্যাচে তারা মোট ১৫টি শট নেয়, যার মধ্যে ৪টি ছিল অন-টার্গেট (Target Shot)। বিপরীতে ইন্টার মায়ামি মাত্র ৮টি শট নিতে সক্ষম হয়। ন্যাশভিলের জমাট ডিফেন্স আর পাল্টা আক্রমণের (Counter Attack) কৌশলের কাছে বারবার পরাস্ত হয়েছে টাটা মার্টিনোর শিষ্যরা।
শুরুতেই বড় ধাক্কা ও মাসচেরানোর প্রতিক্রিয়া ম্যাচ শুরুর সপ্তম মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় মায়ামি। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার ম্যাক্সিমিলিয়ানো ফ্যালকনকে। তাঁর জায়গায় গঞ্জালো লুজান মাঠে নামলেও রক্ষণের সেই ধার কিছুটা কমে গিয়েছিল। ম্যাচ শেষে মায়ামির কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো বলেন, ‘আমরা জানতাম ন্যাশভিলের মাঠে খেলা সহজ হবে না। দল রক্ষণভাগে বেশ পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে এবং ক্লিন শিট (Clean Sheet) রাখতে পেরেছে। এখন আমাদের লক্ষ্য ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে দ্বিতীয় লেগ জয় করা।’
ফয়সালা হবে ফ্লোরিডায় টাইব্রেকার বা অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চ এড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে (Quarter-final) যেতে হলে ১৮ মার্চ মায়ামিকে নিজেদের মাঠে জিততেই হবে। ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলের চেজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই দ্বিতীয় লেগই নির্ধারণ করবে মেসির মায়ামির ভাগ্য। এই ম্যাচের জয়ী দল শেষ আটে মুখোমুখি হবে শক্তিশালী ক্লাব আমেরিকা অথবা ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের।
এদিকে, আগামী ৪ এপ্রিল মায়ামি তাদের নতুন ‘নু স্টেডিয়াম’ (NU Stadium)-এ প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে। তবে ভক্তদের সব নজর এখন ফ্লোরিডার ফিরতি লেগের দিকে, যেখানে মেসি হয়তো ক্যারিয়ারের সেই কাঙ্ক্ষিত ৯০০তম গোলের দেখা পাবেন।