ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে আরও একবার প্রমাণিত হলো কেন রিয়াল মাদ্রিদকে ‘চ্যাম্পিয়নস লিগের রাজা’ বলা হয়। শেষ ষোলোর প্রথম লেগের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যানচেস্টার সিটিকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। ৩-০ গোলের এই বড় হারের পর ভেঙে পড়েছেন সিটির মাস্টারমাইন্ড কোচ পেপ গার্দিওলা। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তার কণ্ঠে ফুটে উঠেছে একরাশ হতাশা আর আত্মসমর্পণের সুর।
ভালভার্দে ঝড়ে তছনছ সিটির রক্ষণভাগ
বুধবার রাতে ঘরের মাঠে রিয়ালের হয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিলেন উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে। ম্যাচের শুরুতেই তার গতির কাছে পরাস্ত হয় সিটির ডিফেন্স লাইন। মাত্র ২২ মিনিটের ব্যবধানে দর্শনীয় এক ‘হ্যাটট্রিক’ (Hat-trick) পূর্ণ করে ইতিহাদ স্টেডিয়ামের জায়ান্টদের স্তব্ধ করে দেন তিনি। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়া সিটির জন্য ম্যাচে ফেরা তো দূরের কথা, ব্যবধান কমানোর কোনো সুযোগই দেয়নি লস ব্লাঙ্কোসরা।
‘ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব’: গার্দিওলার স্বীকারোক্তি
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পেপ গার্দিওলা অকপটে স্বীকার করে নেন বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা। তিনি বলেন, “এখন সত্যি বলতে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ খুব বেশি নেই। রিয়ালের মতো দলের বিপক্ষে তিন গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে দেওয়াটা প্রায় হিমালয় জয়ের মতো কঠিন।”
তবে হারের গ্লানি থাকলেও নিজের দলকে নিয়ে লড়াই করার মানসিকতা হারাননি তিনি। গার্দিওলা আরও যোগ করেন, “অবশ্যই আমরা ইতিহাদে চেষ্টা করব। কোথায় ভুল হয়েছে সেটা ‘অ্যানালাইসিস’ (Analysis) করতে হবে। আমাদের ‘অ্যাটাকিং থার্ডে’ আরও কার্যকর হতে হবে যদি আমরা অলৌকিক কিছু করতে চাই।”
ইতিহাদে কঠিন সমীকরণের মুখে সিটি
আগামী মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সিটির ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় লেগের বাঁচা-মরার লড়াই। ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে (Quarter-final) যেতে হলে সিটিকে এখন ৪-০ ব্যবধানে জিততে হবে। যদি তারা অন্তত ৩-০ ব্যবধানে জয় পায়, তবেই খেলাটি ‘এক্সট্রা টাইম’ (Extra Time)-এ গড়াবে।
ফুটবল প্রেমীদের কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগ মানেই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প। তবে বার্নাব্যুর সেই বিধ্বংসী রিয়ালকে ইতিহাদে রুখে দিয়ে চার গোলের ব্যবধানে জেতাটা আধুনিক ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটির জন্য সবচেয়ে বড় ‘চ্যালেঞ্জ’ (Challenge) হতে যাচ্ছে। সিটির ভক্তরা এখন একটি ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের আশায় প্রহর গুনছেন, যদিও তাদের সেনাপতি নিজেই খুব একটা আশার আলো দেখছেন না।