মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জয়ের সুবাস জাগিয়েও চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে নীল হলো বাংলাদেশ। ডিএলএস (DLS) মেথডে পাকিস্তানের ছুঁড়ে দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ৪১ রানের ব্যবধানে শেষ ৭টি উইকেট হারিয়ে সিরিজ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করল টাইগাররা। ১২৮ রানের বিশাল জয়ে সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা ফেরাল সফরকারীরা, যার ফলে আগামী ১৫ মার্চের শেষ ম্যাচটি এখন রূপ নিয়েছে এক অঘোষিত ফাইনালে।
লিটন-হৃদয়ের লড়াই ও বৃষ্টির বাধা
বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণ করা হয় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। শুরুতে মাত্র ১৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশ ধুঁকছিল, তখন হাল ধরেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। ডিএলএস মেথডের কঠিন সমীকরণ মাথায় রেখে লিটন খেলছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। মাত্র ৩৩ বলে ৪১ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস উপহার দেন তিনি, যাতে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছক্কার মার। চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে লিটন যখন সাজঘরে ফেরেন, বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড তখন লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু লিটনের বিদায়ের পরেই শুরু হয় অভাবনীয় এক ধস।
৪১ রানের ব্যবধানে ৭ উইকেটের পতন
লিটন দাসের আউটের পর ক্রিজে থিতু হতে পারেননি আর কোনো ব্যাটার। আফিফ হোসেন ১৪ রান করে আশা জাগালেও দ্রুতই পথ হারান। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান— প্রত্যেকেই ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডারের এই ব্যর্থতায় ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। তাওহীদ হৃদয় ২৮ রান করে শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার পর স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ১১ রান যোগ করতে সক্ষম হয় টাইগাররা।
পাকিস্তানি বোলারদের দাপট
বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের বোলাররা। গতির ঝড়ে মোস্তাফিজ ও হৃদয়ের উইকেটসহ মোট ৩টি উইকেট তুলে নেন হারিস রউফ (Haris Rauf)। স্পিন জাদুতে সমান ৩টি উইকেট শিকার করেন মাজ সাদাকাত। এছাড়া নতুন বলে তোপ দাগানো শাহিন শাহ আফ্রিদি দখল করেন ২ উইকেট। পাকিস্তানি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থের সামনে টাইগার ব্যাটারদের ফুটওয়ার্ক ও টাইমিং ছিল একেবারেই অগোছালো।
প্রথম ইনিংসের চিত্র ও বোলারদের সাফল্য
এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। মাজ সাদাকাত ও সালমান আলী আগার হাফ-সেঞ্চুরি সফরকারীদের বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেয়। তবে ইনিংসের শেষ দিকে বাংলাদেশি বোলাররা দারুণভাবে কামব্যাক করেছিলেন। শেষ ৪৩ রানের মধ্যে পাকিস্তানের ৭টি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন মিরাজ ও রিশাদরা। বাংলাদেশের পক্ষে রিশাদ হোসেন ৫৬ রানে ৩টি এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ মাত্র ৩৪ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।
ফাইনাল লড়াইয়ের অপেক্ষা
প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটের বিশাল জয়ে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে মিরপুরের এই হারে সেই আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা লাগল। এখন সবার নজর আগামী ১৫ মার্চের শেষ ও নির্ণায়ক ম্যাচের দিকে। মিরপুরের স্লো পিচে ব্যাটাররা নিজেদের পরিকল্পনা দ্রুত গুছিয়ে নিতে না পারলে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে যেতে পারে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যদের জন্য।