দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের অংশ হিসেবে নতুন মূল্য ঘোষণা করছে সরকার। বিশ্ববাজারের তেলের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকারি ভাণ্ডারে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল জমা ছিল। এছাড়া এপ্রিল মাসের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে আসন্ন মাসগুলোতে দেশে জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ডিজেলের গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মোট চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই হলো ডিজেল। এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল মূলত কৃষি খাতের সেচ কাজ এবং গণপরিবহন খাতে ব্যবহৃত হয়। তাই ডিজেলের দাম এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে অকটেন ও পেট্রোলের ব্যবহার তুলনামূলক কম হওয়ায় এগুলোর ব্যবস্থাপনা সহজতর বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন পদক্ষেপ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, অফিসের সময়সীমা কমিয়ে আনা এবং প্রয়োজনে অনলাইন ক্লাস চালুর মতো প্রস্তাবনাগুলো। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে এসব উদ্যোগ কার্যকর করার বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।