• দেশজুড়ে
  • মেরিন ড্রাইভে হাড়হিম করা দুর্ঘটনা: চলন্ত জিপের বডি ছিটকে রাস্তায় আছড়ে পড়লেন ৮ পর্যটক

মেরিন ড্রাইভে হাড়হিম করা দুর্ঘটনা: চলন্ত জিপের বডি ছিটকে রাস্তায় আছড়ে পড়লেন ৮ পর্যটক

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
মেরিন ড্রাইভে হাড়হিম করা দুর্ঘটনা: চলন্ত জিপের বডি ছিটকে রাস্তায় আছড়ে পড়লেন ৮ পর্যটক

বেপরোয়া গতির খেসারত; নারায়ণগঞ্জের ১২ পর্যটকের আনন্দ ভ্রমণ বিষাদে পরিণত, বরাত জোরে প্রাণরক্ষা বড় বিপদের হাত থেকে।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে ঘটে গেল এক অভাবনীয় ও আতঙ্কজনক দুর্ঘটনা। পর্যটকবাহী একটি চলন্ত জিপের পেছনের অংশ বা 'ক্যাবিনেট বডি' (Cabinet Body) আস্ত ছিটকে পড়ে আটজন পর্যটক গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে টেকনাফের মহেশখালীয়াপাড়া এলাকায় এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। চালকের বেপরোয়া গতির কারণে মোড় ঘোরানোর সময় জিপটির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে এই বিপর্যয় ঘটে বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

গতির নেশায় যেভাবে ঘটল বিপর্যয়

দুর্ঘটনার শিকার পর্যটকরা সবাই নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় 'শামীমা অ্যান্ড কোং' ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আমীর খসরু জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ১২ জনের একটি পর্যটক দল কক্সবাজার থেকে একটি ট্যুরিস্ট জিপ (Tourist Jeep) ভাড়া করে মেরিন ড্রাইভ হয়ে টেকনাফ জিরো পয়েন্টে (Zero Point) যাচ্ছিলেন। পথে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য তারা ওই ফিলিং স্টেশনে বিরতি নেন।

পাম্পে তেল নেই শুনে চালক অত্যন্ত দ্রুতগতিতে জিপটি ঘুরিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে বিপত্তি। গাড়ির চেসিস (Chassis) থেকে পেছনের লোহার খাঁচাসদৃশ বডিটি সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়ে। বডির ভেতরে থাকা পর্যটকরা সরাসরি পিচঢালা সড়কে আছড়ে পড়েন। অদ্ভুতভাবে, গাড়ির সামনের ইঞ্জিন ও মূল অংশটি পর্যটকদের ছাড়াই কিছুটা দূরে গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আসে।

উদ্ধার অভিযান ও চিকিৎসাসেবা

রাস্তায় পর্যটকদের ছিটকে পড়তে দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। আহত আটজন পর্যটকের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত ছিল বেশ গুরুতর। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে (Upazila Health Complex) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা (First Aid) শেষে তারা শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় টেকনাফ ত্যাগ করেন। তবে দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় তারা মানসিকভাবে বেশ বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য ও আইনি জটিলতা

ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে। টেকনাফ থানার পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, চালকের 'রেভলেস ড্রাইভিং' (Reckless Driving) বা বেপরোয়া গতির কারণেই এই যান্ত্রিক বিচ্যুতি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে চালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, “আহত পর্যটকরা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। তারা এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ (Written Complaint) করেননি। অভিযোগ না থাকায় চালক বা জিপ মালিকের বিরুদ্ধে আপাতত কঠোর কোনো আইনি ব্যবস্থা (Legal Action) নেওয়া সম্ভব হয়নি।”

মেরিন ড্রাইভে পর্যটক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

মেরিন ড্রাইভের মতো দৃষ্টিনন্দন সড়কে মাঝেমধ্যেই পর্যটকবাহী জিপ বা 'চাঁন্দের গাড়ি'গুলোর বেপরোয়া গতি ও ফিটনেসবিহীন যান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের মতে, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অনেক সময় জিপগুলোকে ছাদখোলা বা অনিরাপদভাবে মডিফাই (Modify) করা হয়, যা উচ্চ গতিতে চলাচলের সময় বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজকের এই ঘটনাটি দেশের পর্যটন খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।