• আন্তর্জাতিক
  • শনিবারের মধ্যেই ইরানে ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’? হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও যুদ্ধের প্রস্তুতি

শনিবারের মধ্যেই ইরানে ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’? হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও যুদ্ধের প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
শনিবারের মধ্যেই ইরানে ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’? হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও যুদ্ধের প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যে ৫০টিরও বেশি অত্যাধুনিক স্টিলথ ফাইটার জেট মোতায়েন করল পেন্টাগন; কূটনীতি না কি সামরিক শক্তি—শেষ মুহূর্তে কোন পথে হাঁটবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

ওয়াশিংটন ডিভিসি: বিশ্ব রাজনীতিতে আবারও ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ। এবার খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেবিলে জমা পড়েছে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার সময়সূচি বা ‘ওয়ার ব্লু-প্রিন্ট’। উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে, পেন্টাগন চাইলে চলতি সপ্তাহান্তেই, অর্থাৎ আগামী শনিবারের মধ্যেই তেহরানের ওপর আঘাত হানতে সক্ষম। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে (Situation Room) অনুষ্ঠিত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র উত্তেজনা।

পেন্টাগনের রণসজ্জা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানের মেলা গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই হামলার প্রস্তুতি হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অত্যাধুনিক F-35 Lightning II, F-22 Raptor এবং F-16 Fighting Falcon-সহ ৫০টিরও বেশি শক্তিশালী যুদ্ধবিমান (Fighter Jets) ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। পেন্টাগন সূত্রের দাবি, যেকোনো সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা (Nuclear Facilities) বা কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক পরিচালনার জন্য মার্কিন বিমানবাহিনী এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

কৌশলী পিছুহটা না কি ঝড়ের পূর্বাভাস? হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা কিছু মার্কিন সেনা ও বেসামরিক কর্মীকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পেন্টাগনের ভাষায় এটি একটি ‘রুটিন প্রসিডিউরাল মুভ’ হলেও সামরিক বিশ্লেষকরা একে দেখছেন সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলার ঝুঁকি কমানোর কৌশল হিসেবে। যদিও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, “কূটনীতিই প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ”, তবে তিনি গত জুনে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে চালানো মার্কিন অভিযানকে ‘অত্যন্ত সফল’ বলে অভিহিত করে তেহরানকে পরোক্ষ হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন।

কূটনীতি বনাম সামরিক শক্তি: ট্রাম্পের দ্বিধা মজার বিষয় হলো, একদিকে যখন হামলার ডঙ্কা বাজছে, অন্যদিকে তখন জেনেভায় পরমাণু ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ‘গঠনমূলক’ আলোচনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মঙ্গলবারের বৈঠককে ফলপ্রসূ বলে দাবি করেছেন। এমনকি দুই পক্ষ একটি ‘গাইডলাইন প্রিন্সিপল’-এ সম্মত হয়েছে বলেও জানা গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প কি সত্যিই হামলার পথে হাঁটবেন, না কি সামরিক চাপের (Maximum Pressure) মাধ্যমে ইরানকে একটি বড় চুক্তিতে বাধ্য করবেন?

ইসরায়েলের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি মাসের শেষেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য অভিযানে ইসরায়েল সরাসরি অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও তেল আবিবের সমর্থন যে ওয়াশিংটনের বড় শক্তি, তা স্পষ্ট। আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ওই অঞ্চলে মোতায়েন সব মার্কিন বাহিনীকে ‘ফুল কমব্যাট রেডিনেস’ বা পূর্ণ যুদ্ধের প্রস্তুতিতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমন এবং ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এখন মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শনিবারের ডেডলাইন কি কেবলই একটি রাজনৈতিক কৌশল, না কি সত্যিই বড় কোনো সংঘাতের শুরু—তা জানতে এখন গোটা বিশ্বের চোখ হোয়াইট হাউসের দিকে।

Tags: middle east donald trump white house military strike nuclear program global tension pentagon news trump iran fighter jets war threats