ব্রিটিশ রাজপরিবারের দীর্ঘ ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও বিষ্ফোরক ঘটনার জন্ম দিয়ে গ্রেফতার হলেন রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রু। কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী (Sex Offender) প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বিতর্কিত সম্পর্কের তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ডের নরফোকের স্যান্ডরিংহ্যাম এস্টেটে অবস্থিত তার অস্থায়ী বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে নয়া মোড় ও টেমস ভ্যালি পুলিশের তৎপরতা
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি (BBC) জানিয়েছে, টেমস ভ্যালি পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের তথ্যপ্রমাণ এবং অত্যন্ত সতর্ক মূল্যায়নের (Careful Assessment) পর তারা এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত (Investigation) শুরু হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই গ্রেফতারের খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই বাকিংহাম প্যালেস এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এপস্টেইন সংযোগ ও দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক
প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে জেফরি এপস্টেইনের বন্ধুত্ব বহু বছরের পুরোনো। এপস্টেইনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা মানব পাচার (Human Trafficking) এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নিপীড়নের নেটওয়ার্কে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে অনেক আগেই। বিশেষ করে ভার্জিনিয়া জুফরে নামক এক নারী দাবি করেছিলেন, যখন তিনি নাবালিকা ছিলেন, তখন এপস্টেইনের প্ররোচনায় প্রিন্স অ্যান্ড্রু তাকে যৌন হেনস্তা করেন। যদিও শুরু থেকেই অ্যান্ড্রু এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন, তবে ২০২২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে দেওয়ানি মামলা (Civil Lawsuit) নিষ্পত্তির জন্য জুফরেকে বিশাল অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিলেন।
রাজপরিবারের মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়া
এই কেলেঙ্কারির জেরে প্রিন্স অ্যান্ড্রু আগেই তার সামরিক খেতাব এবং রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা (Royal Patronages) হারিয়েছিলেন। প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বেঁচে থাকাকালীনই তাকে রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক কাজকর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবারের গ্রেফতারি তার জন্য ব্যক্তিগত ও আইনিভাবে চরম সংকট তৈরি করল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্রিটিশ রাজপরিবারের কোনো সদস্যের এভাবে গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা আধুনিক যুগে আর ঘটেনি। এটি রাজা চার্লসের শাসন আমলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি, তবে আইনি প্রক্রিয়া যে বেশ দীর্ঘ ও জটিল হবে, তার ইঙ্গিত মিলেছে।
বাকিংহাম প্যালেসের ভেতরের খবর অনুযায়ী, রাজপরিবারের ভাবমূর্তি রক্ষায় অ্যান্ড্রুর থেকে দূরত্ব বজায় রাখার নীতিই অনুসরণ করতে পারে ব্রিটিশ রয়্যাল ফ্যামিলি (Royal Family)। এই তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও চাঞ্চল্যকর কোনো তথ্য বেরিয়ে আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা বিশ্ব।