মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের দামামা। ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর এই প্রথম ওই অঞ্চলে ইতিহাসের বৃহত্তম বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের এই নজিরবিহীন সামরিক সক্রিয়তা বিশ্ব রাজনীতি ও Geopolitics-এ নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ একাধিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসন এই বিশাল শক্তিবৃদ্ধি করেছে।
রেকর্ড সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও সামরিক সম্ভার
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের তথ্যমতে, গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে ডজনখানেক যুদ্ধবিমান এবং একাধিক Aircraft Carrier বা বিমানবাহী রণতরি পাঠানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছে, গত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ওই অঞ্চলে ৫০টিরও বেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এই বহরে রয়েছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী F-35 Lightning II, F-22 Raptor এবং বহুল পরীক্ষিত F-16 Fighting Falcon-এর মতো যুদ্ধবিমান।
একইসঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী এবং সর্বাধুনিক রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ (USS Gerald Ford) এই সপ্তাহান্তেই পারস্য উপকূলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসকে দেওয়া এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেন্টাগন যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের Military Operation-এর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
হামলার লক্ষ্য কি ইরান?
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের কারণে ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পরিণতির দিকে না যাওয়ায় ‘Military Option’ বা সামরিক বিকল্পই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিবেচনায় উঠে এসেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও Military Intelligence-এর দেওয়া তথ্যমতে, আগামী শনিবারের মধ্যেই সম্ভাব্য হামলার একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা একে ২০০৩ সালের ১৯ মার্চের ইরাক অভিযানের সঙ্গে তুলনা করছেন, যা সেই সময় পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিয়েছিল।
অপারেশনাল প্রস্তুতি ও আঞ্চলিক প্রভাব
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, "আমাদের বিমান শক্তি এখন সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।" সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের গুঞ্জনের মধ্যেই এই বিশাল সামরিক সমাবেশের ঘটনাটি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সৈন্য সরালেও অন্যদিকে Air Superiority বা আকাশপথে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে এই বিশাল বিমান শক্তি মোতায়েন করেছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই রণসজ্জা নিয়ে ইসরায়েলের বিশেষ নজর রয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় হামলার জন্য ইসরায়েলও অনেকটা প্রস্তুত এবং এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ‘সবুজ সংকেত’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে, যেখানে সামান্যতম উস্কানিও এক বিধ্বংসী যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।