দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক খ্যাতিমান কূটনীতিক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম আর নেই। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রামান্টো শহরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। প্রথিতযশা এই কূটনীতিকের প্রয়াণে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিতকরণ ও শোক প্রকাশ উইলিয়াম মাইলামের মৃত্যুর খবরটি বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন এফ ড্যানিলোভিচ। এছাড়া মাইলামের কন্যা এবং প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এরিকা মাইলামের পাঠানো ইমেইলের বরাত দিয়ে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী তার মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য জানান।
মাইলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। মুশফিকুল ফজল আনসারী তার পোস্টে উল্লেখ করেন, মাইলাম কেবল একজন কূটনীতিকই ছিলেন না, বরং অবসরের পর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক হিসেবেও তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।
বাংলাদেশে উইলিয়াম মাইলামের বর্ণিল অধ্যায় উইলিয়াম বি মাইলাম ১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে তিনি এখানে নিয়োজিত ছিলেন। এরশাদ পতন পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের সময়টিতে তার ভূমিকা ও পর্যবেক্ষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছিল।
দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ ও কর্মজীবন কেবল বাংলাদেশ নয়, উইলিয়াম মাইলাম পাকিস্তানেও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান তাকে এই অঞ্চলের অন্যতম সেরা ‘South Asia Expert’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। সরকারি দায়িত্ব থেকে অবসরের পর তিনি ওয়াশিংটনভিত্তিক ম্যাগাজিন ‘South Asia Perspectives’-এর সিনিয়র এডিটর হিসেবে কাজ করছিলেন।
চলতি বছরের মার্চ মাসেও তিনি ঢাকা সফর করেছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগলেও আমৃত্যু তিনি দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে লেখালেখি ও গবেষণা চালিয়ে গেছেন।
একজন প্রকৃত বন্ধুর প্রয়াণ কূটনৈতিক অঙ্গনে উইলিয়াম মাইলামের পরিচিতি ছিল একজন মিষ্টভাষী ও ধীশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তার বিশ্লেষণগুলো নীতিনির্ধারক মহলে বেশ সমাদৃত ছিল। তার মৃত্যুতে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি বিশাল শূন্যতা তৈরি হলো।
প্রয়াত মাইলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ড্যানিলোভিচ তার পোস্টে লিখেছেন, “তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত মেন্টর এবং দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক অসাধারণ এক কণ্ঠস্বর।” বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদান ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।