আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব ভূ-রাজনীতির (Geopolitics) মঞ্চে ওয়াশিংটনকে আবারও কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মধ্য আমেরিকার দেশ কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জ্বালানি নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তাই দিচ্ছে না মস্কো। কিউবার এই সংকটকালে দেশটির পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে পুতিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কোনো বহিঃশক্তির নিষেধাজ্ঞার কাছে তারা মাথানত করবে না।
মস্কোয় কূটনৈতিক তৎপরতা ও পুতিনের কড়া বার্তা গত মঙ্গলবার মস্কো সফরে যান কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগুয়েজ। বুধবার রুশ প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর ও বাসভবন ক্রেমলিনে (Kremlin) পুতিনের সঙ্গে তার এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কিউবার ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ উঠলে পুতিন তার স্বভাবজাত দৃঢ়তায় বলেন, “বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার একটি বিশেষ মৌসুম শুরু হয়েছে। আমরা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপকে আমল দিই না এবং ভবিষ্যতেও দেবো না। এ ব্যাপারে রাশিয়ার অবস্থান প্রকাশ্য, স্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন।”
ভেনেজুয়েলা সংকট ও কিউবার জ্বালানি বিপর্যয় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনা অভিযান এবং দেশটির তেলসম্পদ হস্তগত করার ঘটনায় কিউবা এক গভীর জ্বালানি সংকটে (Energy Crisis) নিমজ্জিত হয়। বামপন্থি নিকোলাস মাদুরো সরকার দীর্ঘদিন ধরে হ্রাসকৃত মূল্যে কিউবাকে তেল সরবরাহ করত। কিন্তু মাদুরোকে অপসারিত করার পর সেই সরবরাহ লাইন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ওপর গোদের ওপর বিষফোড়া হয়ে দাঁড়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা (Fuel Sanctions)। ওয়াশিংটন ঘোষণা দেয়, যে দেশই কিউবাকে তেল দেবে, তাদের ওপর চড়া রফতানি শুল্ক (Export Duty) আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
ঐতিহাসিক মৈত্রীর নতুন সমীকরণ ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবায় বিপ্লব হওয়ার পর থেকেই মস্কো ও হাভানার মধ্যে এক অটুট বন্ধন তৈরি হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পরও সেই মিত্রতায় (Diplomatic Alliance) কোনো চিড় ধরেনি। পুতিন কিউবার জনগণের এই দীর্ঘ লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে বলেন, “১৯৫৯ সাল থেকে কিউবা কী কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা আমরা জানি। শুধুমাত্র নিজেদের জাতীয় স্বার্থ এবং ন্যায্য অধিকার রক্ষার জন্যই আজ তাদের এত সংগ্রাম করতে হচ্ছে।”
দ্রুত পৌঁছাচ্ছে রুশ তেলের চালান শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না পুতিন। হাভানায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস থেকে দেওয়া এক প্রেস রিলিজে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কিউবার ভয়াবহ জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার তেলের প্রথম বিশাল চালানটি দ্রুতই হাভানা বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ কেবল একটি দেশের জ্বালানি সংকট দূর করা নয়, বরং দক্ষিণ আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ‘পাওয়ার প্লে’ (Power Play)।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মুখে পুতিনের এই সরাসরি চ্যালেঞ্জ কিউবা-রাশিয়া সম্পর্ককে যেমন নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল, তেমনি ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাকে আবারও উসকে দিল।