• রাজনীতি
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে ব্যবসায়ীকে নিয়োগে জামায়াতের তীব্র উদ্বেগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে ব্যবসায়ীকে নিয়োগে জামায়াতের তীব্র উদ্বেগ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার; স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে ব্যবসায়ীকে নিয়োগে জামায়াতের তীব্র উদ্বেগ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় একজন শিল্পপতিকে নিয়োগ দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর যেখানে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন প্রত্যাশিত ছিল, সেখানে এমন নিয়োগ প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার পরিপন্থি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদে একজন ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার সকালে দলের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানান দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গভর্নর পদের গুরুত্ব ও জামায়াতের অবস্থান বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বা অলংকারমূলক পদ নয়। এটি একটি দেশের আর্থিক খাতের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দেশের মুদ্রানীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা, ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা নির্ভর করে।

স্বার্থের সংঘাত ও নৈতিকতার প্রশ্ন জামায়াত উল্লেখ করে যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন শিল্পপতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বে বসানো হলো। নিয়োগ পাওয়ার মাত্র অল্প সময় আগে উক্ত ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি টাকার (সাত মিলিয়ন ডলারের বেশি) ঋণ বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করা হয়েছিল। এ ছাড়া তিনি বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে একজন ঋণ সুবিধাভোগীকে পুরো ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক বানানোয় স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) ও প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জ্যেষ্ঠ ব্যাংকাররা ইতোমধ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছেন।

গণআন্দোলন ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্বের দাবি বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের মূল ভিত্তিই ছিল মেধাতন্ত্র ও কাঠামোগত সংস্কারের দাবি। কোটা আন্দোলন কেবল কোটার প্রশ্ন ছিল না, বরং এটি ছিল দক্ষ প্রশাসনের দাবিতে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। কিন্তু নতুন গভর্নরের নিয়োগ সেই গণপ্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা দিচ্ছে। রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের আর্থিক খাত নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে শঙ্কা মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলেন, যিনি একটি মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এবং ঋণের সুবিধা নিতে হয়েছে, তিনি কীভাবে পুরো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবেন? এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতার অবসান ঘটাতে পারে বলেও জামায়াতে ইসলামী আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

Tags: bangladesh bank bangladesh economy jamaat-e-islami banking sector governor appointment mia golam parwar political appointment