• জীবনযাপন
  • ইফতারে টক দই: এক গ্লাস প্রশান্তি না কি সুস্থতার মহৌষধ? যা বলছেন পুষ্টিবিদরা

ইফতারে টক দই: এক গ্লাস প্রশান্তি না কি সুস্থতার মহৌষধ? যা বলছেন পুষ্টিবিদরা

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
ইফতারে টক দই: এক গ্লাস প্রশান্তি না কি সুস্থতার মহৌষধ? যা বলছেন পুষ্টিবিদরা

সারাদিন রোজা শেষে পানিশূন্যতা রোধ এবং দ্রুত হজমে টক দইয়ের জাদুকরী ভূমিকা; জানুন এর বৈজ্ঞানিক উপকারিতা ও খাওয়ার সঠিক নিয়ম।

পবিত্র রমজানে সারাদিন অনাহারে থাকার পর ইফতারে ভাজাপোড়া আর তৈলাক্ত খাবারের আধিক্য আমাদের চিরাচরিত সংস্কৃতি। তবে দীর্ঘ সময় পেট খালি থাকার পর হঠাৎ এমন ভারী খাবার হজম প্রক্রিয়ায় (Metabolism) বিঘ্ন ঘটায়, যার ফলে দেখা দেয় গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে পুষ্টিবিদরা ইফতার টেবিলে ‘সুপারফুড’ হিসেবে টক দই রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। সাধারণ এই দুগ্ধজাত খাবারটি কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

অন্ত্রের সুরক্ষায় ‘প্রোবায়োটিক’ শক্তি টক দইয়ের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক (Probiotic)। এটি আমাদের অন্ত্রের (Gut Health) স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর পাকস্থলী যখন খাবার গ্রহণ করে, তখন প্রোবায়োটিক খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে। এটি বদহজম ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দূর করে ইফতার পরবর্তী অস্বস্তি কমিয়ে দেয়।

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রশান্তি রোজার সময় শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। টক দই প্রাকৃতিক কুল্যান্ট (Coolant) হিসেবে কাজ করে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে। এর শীতল প্রভাব ক্লান্তি দূর করে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেয়, যা দীর্ঘদিনের পানিশূন্যতা ও অবসাদ কাটাতে সহায়ক।

ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা ঘাম ও প্রস্রাবের মাধ্যমে সারাদিন শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। টক দইয়ে রয়েছে প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ উপাদান, যা শরীরে ইলেকট্রোলাইট (Electrolytes) ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি পানিশূন্যতা রোধ করে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির প্রাকৃতিক ঢাল যাঁরা দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক বা হার্টবার্ন (Heartburn)-এর সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য ইফতারে টক দই আশীর্বাদস্বরূপ। এটি পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করে। ফলে ইফতারে সামান্য চর্বিযুক্ত খাবার খেলেও তা বুক জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে না।

ক্যালসিয়াম ও হাড়ের সুরক্ষা টক দই ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিনের চমৎকার উৎস। নিয়মিত ইফতারে এটি রাখলে দাঁত ও হাড়ের মজবুত গঠন নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে এটি অত্যন্ত কার্যকর।

কীভাবে এবং কতটা খাবেন? পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতারে আধা কাপ থেকে এক কাপ (১০০-২০০ গ্রাম) টক দই খাওয়া যথেষ্ট। সরাসরি খেতে ভালো না লাগলে এতে সামান্য মধু, কলা বা অন্য কোনো ফল মিশিয়ে হেলদি স্মুদি (Healthy Smoothie) তৈরি করা যেতে পারে। তবে বাড়তি চিনি বা লবণ এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ চিনি টক দইয়ের গুণাগুণ কমিয়ে দিতে পারে।

সুস্থ ও সতেজ থেকে পবিত্র রমজানের প্রতিটি রোজা সম্পন্ন করতে ইফতারের খাদ্যতালিকায় টক দই হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী।

Tags: health news digestion help hydration guide ramadan diet iftar tips yogurt benefits probiotic food